সরকারি কর্মচারী

8th Pay Commission: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও ৭ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব দিল কর্মী সংগঠনগুলি

8th Pay Commission News
8th Pay Commission News

8th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) সংক্রান্ত আলোচনা এখন তুঙ্গে। নতুন বেতন কাঠামো কেমন হবে, তা নির্ধারণ করতে দিল্লিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল (স্টাফ সাইড) – জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর ড্রাফটিং কমিটি বর্তমানে দিল্লিতে তাদের সপ্তাহব্যাপী বৈঠক চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রায় ১ কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ দাবিপত্র বা মেমোরেন্ডাম তৈরি করা।

বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের কাজ এখন পুরোদমে শুরু হওয়ার মুখে। এরই মধ্যে জনপথে অবস্থিত ‘চন্দ্রলোক বিল্ডিং’-এ কমিশনের জন্য অফিস বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কর্মী সংগঠনগুলো তাদের দাবিদাওয়া চূড়ান্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।

সূচিপত্র

বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব: অ্যাক্রয়েড ফর্মুলা

এবারের পে কমিশনে বেতন বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘অ্যাক্রয়েড ফর্মুলা’ (Akroyd Formula) ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) গতানুগতিক বা সব স্তরের জন্য সমান ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পরিবর্তে একটি বহু-স্তরীয় বা ‘Multi-Level Fitment Factor’-এর প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের কাঠামো:

  • লেভেল ১ থেকে ৫: সর্বনিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য ৩.০০ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। অর্থাৎ, বর্তমান বেসিক পে-এর ৩ গুণ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব।
  • লেভেল ৬ থেকে ১২: সুপারভাইজারি ও টেকনিক্যাল পদের দায়িত্ব বিবেচনা করে ৩.০৫ থেকে ৩.১০ গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব।
  • লেভেল ১৬ ও তার উর্ধ্বে: উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে ৩.২৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।

এই ফর্মুলা অনুযায়ী, একজন ৪ সদস্যের পরিবারের পুষ্টি এবং অপরিহার্য চাহিদার কথা মাথায় রেখে ন্যূনতম জীবনধারণের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি এই প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে এন্ট্রি লেভেলে (লেভেল ১) ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৪,০০০ টাকা হতে পারে।

কেবল বেসিক পে নয়, নজরে অন্যান্য ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছাড়াও কর্মী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF), বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে:

১. বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি: বর্তমানে কর্মীরা বছরে ৩% হারে ইনক্রিমেন্ট পান। তবে দাবি উঠেছে এটি বাড়িয়ে ৭% (অথবা অন্তত ৫%) করার, যাতে কর্মজীবনের সঙ্গে আর্থিক প্রগতি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
২. পারিবারিক সংজ্ঞা পরিবর্তন: বেতন নির্ধারণের সময় পরিবার বলতে বর্তমানে ৩ জন সদস্য ধরা হয়। এটিকে বাড়িয়ে ৫ জন (নির্ভরশীল বাবা-মাকে অন্তর্ভুক্ত করে) করার দাবি জানানো হয়েছে। এটি করা হলে গাণিতিক হিসেবে বেসিক স্যালারি প্রায় ৬৬% বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. চিকিৎসা ও ভ্রমণ ভাতা: নন-সিজিএইচএস (Non-CGHS) এলাকার কর্মীদের জন্য ফিক্সড মেডিকেল অ্যালাউন্স ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলটিসি (LTC) নগদে পাওয়ার দাবিও রয়েছে।
৪. পেনশন ও ছুটি: লিভ এনক্যাশমেন্টের সীমা ৩০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪০০ দিন করা এবং এনপিএস (NPS) বাতিল করে পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) বা ওল্ড পেনশন স্কিম পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

কবে থেকে কার্যকর হবে?

ড্রাফটিং কমিটির সদস্যরা মার্চ মাসের শুরু পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থান করবেন বিভিন্ন দপ্তরের প্রস্তাবনাগুলিকে একসূত্রে বাঁধতে। এরপর চূড়ান্ত মেমোরেন্ডাম বা স্মারকলিপিটি কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি দেশাইয়ের কাছে জমা দেওয়া হবে। যদিও আশা করা হচ্ছে যে অষ্টম পে কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, তবে বর্ধিত বেতন এবং বকেয়া (Arrears) কবে হাতে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করছে কমিশন কত দ্রুত তাদের রিপোর্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জমা দেয় তার ওপর।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>