News

Abhijit Gangopadhyay: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে সিবিআই ইডি তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কেউ ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন কিন্তু খাতায় আছে ৩ লক্ষ টাকা।

Justice Abhijit Gangopadhyay: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল। আলিপুরদুয়ার মহিলা ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে দুর্নীতির তথ্য পেল সিবিআই। শুক্রবার সিবিআই আধিকারিকরা এই সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নেওয়া ১৯ জন ঋণগ্রহীতাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আর তাদের জেরা করেই এই সমবায় সংস্থার ঋণ দুর্নীতির কথা জানতে পারেন সিবিআই আধিকারিকরা। গ্রাহকরা এই সমবায় সমিতিতে টাকা জমা দিয়েও সেই টাকা ফেরত পাননি। পরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Gangopadhyay) সিবিআই এবং ইডিকে দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই তদন্তে সমবায় সমিতির ঋণে দুর্নীতির তথ্য পায় সিবিআই।

জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই অফিসাররা জানতে পারেন যে সমবায় সমিতিতে জমা হওয়া টাকা থেকে পছন্দমত ঋণ দিতেন সমবায় সমিতির আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, সমবায় সমিতির মালিকরা ঋণগ্রহীতাদের নামে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিজেরা আত্মসাৎ করতেন । বাকি টাকা ঋণগ্রহীতাকে দেওয়া হতো। ঋণগ্রহীতার নামে রেজিস্ট্রারে যে পরিমাণ অর্থ দেখানো হয়েছিল তা তাদের পাওয়া পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ পেতে কেরানিকেও কমিশন দিতে হয়েছে।

এই সমবায় প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সূর্য নগরের বাসিন্দা রাজু সাহ। সেই টাকা তিনি পরিশোধও করেছেন। কিন্তু রাজু সাহার নামে তিন লাখ টাকা ঋণ নিবন্ধন করা হয়েছে। এদিন সিবিআই আধিকারিকরা রাজু সাহাকে ডেকে জেরা করেন। আর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন যে, ওই সমবায় সমিতিতে তার মায়ের 60,000 টাকা ফিক্সড ডিপোজিট ছিল, সেই ফিক্সড ডিপোজিটের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলেন তিনি। তিনি তার এলআইসির কাগজও জমা দিয়েছিলেন। এখন ৩ লক্ষ টাকার লোন আছে শুনে তিনি হতবাক।

আলিপুরদুয়ার কোর্ট মোড়ে ব্যবসা করেন রতন কর। তিনি এই সমবায় সমিতি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ২০১১ সালে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু রতনবাবুর দাবি, তিনি কখনও ২০,০০০ কখনও ৪০,০০০ কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। কিছু টাকা শোধ করেও দিয়েছেন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে তিনি কোনো টাকা দেননি। আজ জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিবিআই আধিকারিকরাও জানতে পেরেছিলেন যে ঋণ দেওয়া এবং নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইন মানা হয়নি। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রক্ষণাবেক্ষণ করেননি সমবায়ের আধিকারিক-কর্মচারীরা। ফলে এই সমস্ত টাকা সমবায় নেতারা হরির লুটের মতো নানাভাবে লুট করে নেয়।

Join Telegram groupJoin Now
Join WhatsApp ChannelJoin Now

Related Articles

Back to top button