CBDT GAAR Rules: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT) সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, ১ এপ্রিল ২০১৭-এর আগে করা বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর জেনারেল অ্যান্টি-অ্যাভয়ডেন্স রুলস বা গ্যার (GAAR) প্রযোজ্য হবে না। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত Notification No. 54/2026 এবং 55/2026 অনুযায়ী, লিগ্যাসি বা পুরোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করদাতাদের বড়সড় আইনি জটিলতা থেকে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Table of Contents
প্রেক্ষাপট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়
গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট টাইগার গ্লোবাল মামলায় একটি যুগান্তকারী রায় দেয়। সেই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি কোনো কৃত্রিম কাঠামোর ক্ষেত্রে আয়কর দপ্তর গ্যার (GAAR) প্রয়োগ করতে পারবে। ওয়ালমার্ট ও ফ্লিপকার্ট চুক্তির ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ করে মরিশাস-ভিত্তিক সংস্থার কর ছাড়ের দাবি খারিজ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর সাধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মনে শঙ্কা তৈরি হয় যে, হয়তো তাঁদের পুরোনো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আয়ের ওপরও নতুন করে করের কোপ পড়তে পারে। সেই বিভ্রান্তি এবং বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূর করতেই CBDT এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে।
গ্যার (GAAR) এবং গ্র্যান্ডফাদারিং কী
গ্যার হলো আয়কর আইনের এমন একটি কড়া নিয়ম, যার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি কৃত্রিম আর্থিক লেনদেন বা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বাতিল বা পুনঃমূল্যায়ন করার ক্ষমতা আয়কর দপ্তরের হাতে থাকে। এটি ২০১২-১৩ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রথম প্রস্তাবিত হলেও, বাস্তবে ১ এপ্রিল ২০১৭ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়।
অন্যদিকে, ‘গ্র্যান্ডফাদারিং’ হলো এমন একটি আইনি রক্ষাকবচ বা বিশেষ ছাড়, যেখানে পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী চলা কাজ বা বিনিয়োগের ওপর আচমকা নতুন নিয়ম চাপানো হয় না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন আয়কর আইন ২০২৫-এর অধীনে আয়কর বিধি ২০২৬-এর ১২৮ নম্বর রুলে সংশোধন এনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালের এপ্রিলের আগের বিনিয়োগের ওপর এই গ্র্যান্ডফাদারিং সুবিধা সম্পূর্ণ বহাল থাকবে। এর ফলে হঠাৎ করে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপবে না।
নিয়মের মূল বিষয়বস্তু
- ১ এপ্রিল ২০১৭-এর আগের বিনিয়োগ: এই নির্দিষ্ট তারিখের আগে কেনা শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য সম্পত্তিতে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ের (ক্যাপিটাল গেইন) ওপর GAAR কোনোভাবেই প্রয়োগ হবে না।
- আয়কর বিধি সংশোধন: নতুন নিয়মের আওতায় আয়কর বিধি ২০২৬-এর ১২৮ নম্বর রুল এবং ১৯৬২-এর ১০ইউ রুলে প্রয়োজনীয় বদল আনা হয়েছে। এই নিয়মগুলি ৩১ মার্চ ২০২৬ ও ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
- শর্তসাপেক্ষ নিয়ম: বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে যে, পুরোনো বিনিয়োগ হস্তান্তরের সঙ্গে যুক্ত কর বাঁচানোর ব্যবস্থাটি যদি আগাগোড়াই কৃত্রিম হয় এবং মূল উদ্দেশ্য যদি শুধুই কর ফাঁকি দেওয়া হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আয়কর দপ্তর তা খতিয়ে দেখতে পারে।
কর্মীদের ওপর প্রভাব (Impact on Employees)
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক বা সাধারণ বেতনভুক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকার বেশ কিছু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে:
- দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে নিরাপত্তা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের অনেকেই নিজেদের অবসর জীবন সুরক্ষিত করতে বা সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শেয়ার বাজার, বন্ড বা মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করেন। যাঁরা ২০১৭ সালের ১ এপ্রিলের আগে এই ধরনের আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরা এখন সেই সম্পদ বিক্রি করার সময় GAAR-এর মতো জটিল স্ক্রুটিনির আওতার বাইরে থাকবেন।
- ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ও আইটি রিটার্ন: এর অর্থ এমন নয় যে কর্মীদের প্রাপ্ত আয়ের ওপর কোনো আয়কর দিতে হবে না। তাঁদের স্বাভাবিক আয়কর আইন মেনেই লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনের (LTCG) ওপর কর মেটাতে হবে। তবে কোনো অপ্রত্যাশিত পেনাল্টি বা কৃত্রিম লেনদেনের অভিযোগে আয়কর দপ্তরের অহেতুক হয়রানির মুখে পড়তে হবে না।
- কর পরিকল্পনায় সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) বা পেনশনের বাইরে গিয়ে যাঁরা পুরোনো বিনিয়োগ ভাঙানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময় এই গ্র্যান্ডফাদারিং নিয়মের আইনি সুবিধা নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নিজেদের হিসাব দেখাতে পারবেন। এর ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং বা আর্থিক পরিকল্পনা অনেক সহজ হবে।
এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে। বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
তথ্য যাচাই: প্রতিবেদনটির তথ্য অফিশিয়াল নির্দেশিকা এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্বারা যাচাইকৃত।