CBSE New Curriculum: জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং জাতীয় পাঠ্যক্রমের রূপরেখা (NCFSE) ২০২৩-এর লক্ষ্যপূরণে স্কুলস্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনল কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ এবং নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও অঙ্কের ক্ষেত্রে দ্বি-স্তরীয় (Two-tier) মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড।
সূচিপত্র
ভাষা শিক্ষায় নতুন বিন্যাস: R1, R2 এবং R3
মুখস্থ বিদ্যার চিরাচরিত পথ ছেড়ে পড়ুয়াদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে এবার থেকে তিন-ভাষার সূত্র বা 3-Language Formula বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থায় ভাষাগুলিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
- R1 (প্রাথমিক ভাষা): এটি হবে শিক্ষার্থীর মাতৃভাষা। এই স্তরে পড়ুয়ার দক্ষতার মান হবে সবচেয়ে বেশি।
- R2 (দ্বিতীয় ভাষা): এটি R1 থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভাষা হতে হবে এবং এর পাঠ্যক্রম হবে অপেক্ষাকৃত সহজ।
- R3 (তৃতীয় ভাষা): ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য এই স্তরটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটি অবশ্যই R1 ও R2-এর থেকে আলাদা হতে হবে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এই তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষাকে অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। এর ফলে ইংরেজি আর আগের মতো অপরিহার্য থাকছে না; বরং এটি ফরাসি বা জার্মানের মতো একটি ‘বিদেশি ভাষা’ বা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। নতুন এই কাঠামোর কথা মাথায় রেখে বাংলা, তামিল, তেলেগুসহ ৯টি আঞ্চলিক ভাষার জন্য বিশেষ স্টাডি মেটিরিয়াল তৈরি করছে বোর্ড। ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার্থীদের এই তিনটি ভাষাতেই পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও অঙ্কে দ্বি-স্তরীয় মূল্যায়ন পদ্ধতি
পরীক্ষার বিভীষিকা কাটাতে এবং পড়ুয়াদের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমাতে অঙ্ক ও বিজ্ঞানের মূল্যায়নে দুটি আলাদা স্তর নিয়ে আসছে CBSE:
- স্ট্যান্ডার্ড লেভেল (Standard Level): এটি সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। বিষয়ের মূল ধারণাগুলি যাচাই করার জন্য ৮০ নম্বরের ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হবে।
- অ্যাডভান্সড লেভেল (Advanced Level): যারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বা অঙ্ক নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চায়, তারা এই অতিরিক্ত পরীক্ষাটি দেওয়ার সুযোগ পাবে। এটি হবে ২৫ নম্বরের ১ ঘণ্টার একটি ঐচ্ছিক পরীক্ষা, যেখানে মূলত Higher Order Thinking Skills (HOTS) বা উচ্চতর চিন্তন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হবে।
অ্যাডভান্সড লেভেলের প্রাপ্ত নম্বর মার্কশিটে আলাদাভাবে উল্লেখ করা থাকবে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও পড়ুয়ার সামগ্রিক ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং তাকে সেই ক্লাসে আটকে রাখা হবে না।
নতুন দক্ষতা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
পুরানো গতানুগতিক পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে এবার জোর দেওয়া হচ্ছে যোগ্যতা-ভিত্তিক (competency-based) এবং অ্যাপ্লিকেশন-ভিত্তিক মাল্টিপল চয়েস প্রশ্নের (MCQ) ওপর। নবম ও দশম শ্রেণিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), কোডিং এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আবশ্যিক করা হচ্ছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জটি অন্য জায়গায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকার স্কুলগুলিতে একই সঙ্গে একাধিক স্থানীয় ভাষার জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আবার একই স্কুলের ভেতরে স্ট্যান্ডার্ড ও অ্যাডভান্সড—এই দুই ধরনের পঠনপাঠন পরিচালনা করাও যথেষ্ট কঠিন হবে।
সর্বশেষ আপডেট: এপ্রিল মাসে প্রকাশিত সিবিএসই-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দশম শ্রেণিতে আর পুরোনো ‘বেসিক ম্যাথস’ পদ্ধতি থাকবে না। তার বদলে পুরোপুরি কার্যকর হবে এই নতুন স্ট্যান্ডার্ড ও অ্যাডভান্সড ব্যবস্থা।