DA Arrear SOP: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল রাজ্য সরকার। গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কর্মীদের জন্য এবার কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নবান্ন। গত ১০ই এপ্রিল অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ ও পেনশনারদের জন্য মহার্ঘ ত্রাণ (DR) প্রদানের নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী বা এসওপি (SOP) দ্রুত জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে।
সূচিপত্র
প্রেক্ষাপট ও অর্থ দপ্তরের বর্তমান অবস্থান
রাজ্য সরকারের এই তৎপরতার মূলে রয়েছে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ১৩ই মার্চ, ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তর ৯৯৮-এফ(পি২) [998-F(P2)] নম্বর মেমো প্রকাশ করে বকেয়া হিসেব চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ১লা এপ্রিল একটি পর্যালোচনামূলক বৈঠকও হয়। সেই সভাতেই প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে ডিএ মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) তৈরি করে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে নবান্নের আপত্তির জায়গাটি হলো সময়ানুবর্তিতা। অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, এত দিন পার হয়ে গেলেও কোনো দপ্তরের পক্ষ থেকেই এসওপি জমা পড়েনি। ঠিক কী পদ্ধতিতে কর্মীরা তাঁদের বকেয়া টাকা হাতে পাবেন এবং গণনার ধরন কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এই স্থবিরতা কাটাতেই ১০ই এপ্রিল পুনরায় কড়া চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন অর্থ দপ্তরের আধিকারিকরা।
কোন কোন দপ্তরের ওপর নজর?
এই বিশেষ নির্দেশিকাটি মূলত রাজ্যের অনুদানপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু দপ্তরের কর্মীদের জন্য কার্যকর হবে। তালিকায় রয়েছে:
- উচ্চ শিক্ষা (Higher Education) ও বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর (School Education)
- গণশিক্ষা (Mass Education)
- নগরোন্নয়ন এবং পৌর বিষয়ক দপ্তর (Urban Development & Municipal Affairs)
- সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর (Minority Affairs & Madrasah Education)
- পরিবহন দপ্তর (Transport Department)
- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর (Panchayat & Rural Development)
কর্মীদের পকেটে টাকা পৌঁছাতে দেরি কেন?
এসওপি জমা দেওয়ার বিষয়টি নিছকই কোনো সরকারি নিয়ম নয়, বরং এর সঙ্গে কর্মীদের আর্থিক পাওনা সরাসরি যুক্ত।
- প্রথমত, এই রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেজারি বা ডিডিও-রা (DDO) বকেয়া টাকার কোনো বিল তৈরি করতে পারছেন না।
- অন্যদিকে, সরকারি HRMS বা e-Bantan পোর্টালে এই সংক্রান্ত ফান্ডের অনুমোদন (Allotment) দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও থমকে আছে।
- তাছাড়া, এই দপ্তরগুলির গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ কর্মীদের টাকা তাঁদের সরাসরি হাতে আসবে নাকি GPF অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই এসওপি-র মাধ্যমেই ঠিক হবে। পেনশন মডিউলের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তরা কীভাবে টাকা পাবেন, সেই রোডম্যাপও এখানেই নির্ধারণ করা হবে।
১৩ই এপ্রিলের ডেডলাইন
দেরি করতে রাজি নয় নবান্ন। অর্থ দপ্তরের নতুন চিঠিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, আগামী ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিটি অনুদানপ্রাপ্ত দপ্তরকে তাদের কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া ডিএ/ডিআর মেটানোর এসওপি আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে। এই এসওপি অনুমোদিত হওয়ার পরেই মিলবে আর্থিক ছাড়পত্র, যা এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া মেটানোর পথ প্রশস্ত করবে।
সর্বশেষ আপডেট
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সুপ্রিম কোর্টের ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের রায়কে মান্যতা দিয়েই রাজ্য সরকার এই পথে হাঁটছে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মেটানো হবে, যা হিসাব করা হবে অল-ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রুপ ডি কর্মীরা বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেলেও, গ্রুপ এ, বি ও সি কর্মীদের টাকা ২৪ মাসের লক-ইন পিরিয়ড সহ জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে।