WB DA Arrears: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে একটি নতুন মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন (MA) দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শীর্ষ আদালতের দেওয়া রায়ের নির্দেশিকা আংশিক পরিবর্তন করে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ প্রদানের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
Table of Contents
বকেয়া ডিএ প্রদানের পরিকাঠামো ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর দীর্ঘস্থায়ী মামলায় আদালতের নির্দেশে একটি মনিটরিং কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠক যথাক্রমে গত ১২ এবং ২০ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্য সরকার কর্মীদের বকেয়া হিসাব এবং তা প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকাঠামো তৈরি করছে।
- ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল: এই সময়কালের তথ্য ইতিমধ্যেই কম্পিউটারাইজড। ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা আইএফএমএস (IFMS)-এর মাধ্যমে এই পর্বের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
- ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল: এই সময়কালে রাজ্য সরকারের কোনো এইচআরএমএস (HRMS) বা আইএফএমএস পোর্টাল কার্যকর ছিল না। তাই পুরোনো সার্ভিস বুকগুলো ডিজিটাইজ করার জন্য একটি নতুন ডেডিকেটেড পোর্টাল চালু করা হবে।
বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি বা পেমেন্ট মডেল
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১০০ শতাংশ এআইসিপিআই (AICPI) নিউট্রালাইজেশন নীতি মেনেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসাব করা হবে। পেমেন্টের ক্ষেত্রে দুটি ভাগ থাকছে:
- গ্রুপ ডি কর্মী: এই বিভাগের কর্মীদের বকেয়া অর্থ সরাসরি নগদে (Cash) প্রদান করা হবে।
- অন্যান্য কর্মী: বাকি সমস্ত কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টে সময়সীমা বৃদ্ধির কারণ
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটাতে না পারার বেশ কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে:
- ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যের তহবিলে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে।
- সরকারের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধের চাপ রয়েছে।
- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে রাজ্যের আনুষঙ্গিক খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
- পুরোনো নথিপত্র ডিজিটাইজ করা এবং সমগ্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে লজিস্টিক বাধা রয়েছে।