DA Arrears Grant In Aid: ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দপ্তর গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) কর্মী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA ও মহার্ঘ ত্রাণ বা DR মেটানোর লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৮ মাসের বকেয়া পাওনা নির্ভুলভাবে হিসাব করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে মাসভিত্তিক তথ্য তলব করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এই পদক্ষেপের পর অন্যান্য গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল এবং পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূচিপত্র
প্রেক্ষাপট এবং অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রাজ্য অর্থ দপ্তর। গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের জারি করা মেমোরেন্ডাম নম্বর 997-F(P2) অনুযায়ী, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া ডিএ-এর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই উচ্চশিক্ষা দপ্তর এই তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল।
বর্তমান কর্মচারীদের জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
যেহেতু এই বকেয়া ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের, তাই হিসাবটি সম্পূর্ণভাবে ROPA 2009 বেতন কাঠামো অনুযায়ী করতে হবে। কর্মরত গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের প্রতিটি মাসের (মোট ৪৮ মাস) হিসাব নির্দিষ্ট ছকে দপ্তর থেকে জমা দিতে হবে। যে তথ্যগুলি বাধ্যতামূলকভাবে চাওয়া হয়েছে:
- কর্মচারীর নাম: সার্ভিস বুক বা পে-স্লিপ অনুযায়ী সঠিক নাম।
- ব্যান্ড পে (Band Pay): সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট ব্যান্ড পে।
- গ্রেড পে (Grade Pay): শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে তাদের প্রযোজ্য গ্রেড পে বা একাডেমিক গ্রেড পে।
- বেসিক পে (Basic Pay): ব্যান্ড পে এবং গ্রেড পে-এর যোগফল অর্থাৎ মূল বেতন।
- প্রাপ্ত মহার্ঘ ভাতা: ওই নির্দিষ্ট মাসে কত টাকা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স বা ডিএ পাওয়া গেছে তার সঠিক হিসাব।
পেনশনার ও ফ্যামিলি পেনশনারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম
গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা ফ্যামিলি পেনশনারদের ক্ষেত্রেও ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৮ মাসের তথ্য জমা করতে হবে। তাদের জন্য নির্ধারিত ফরম্যাটে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি থাকা আবশ্যক:
- নাম এবং পদবি: পেনশনারের নাম এবং অবসরের আগের পদবি।
- সর্বশেষ বেসিক পে: অবসরের সময় শেষ প্রাপ্ত বেসিক পে।
- বেসিক পেনশন: অবসর গ্রহণের পর নির্ধারিত মূল পেনশনের পরিমাণ।
- কমিউটেশনের পর বেসিক পেনশন: বেসিক পেনশনের যে অংশ কমিউট (যেমন ৪০ শতাংশ) করা হয়েছে, তা বাদ দিয়ে বাকি পেনশনের হিসাব।
- প্রাপ্ত মহার্ঘ ত্রাণ: ওই নির্দিষ্ট মাসে প্রাপ্ত ডিয়ারনেস রিলিজ বা মহার্ঘ ত্রাণ।
এই বিজ্ঞপ্তির বাস্তব প্রভাব
বর্তমানে সব দপ্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জমা নেওয়ার কাজ শুরু না হলেও, কর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখনই নিজেদের পুরনো অ্যাকুইটেন্স রোল (Acquittance roll), স্যালারি স্লিপ এবং ব্যাঙ্ক পাসবুক খুঁজে রাখা উচিত। বিশেষ করে যে সমস্ত পেনশনার তাদের পেনশনের একটি বড় অংশ কমিউট করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে হিসাব সামান্য জটিল হতে পারে। তাই আগে থেকে এই ৪৮ মাসের ডেটাশিট প্রস্তুত রাখলে নির্দেশিকা আসামাত্র তা দ্রুত ডিডিও বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করা সম্ভব হবে। এর ফলে তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া মসৃণ হবে এবং বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা জিপিএফ অ্যাকাউন্টে ঢোকার ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব হবে না।