DA Arrears Payment: বকেয়া ডিএ মেটানোর নেপথ্যে কোন গাণিতিক কৌশল? রাজ্য সরকারের হিসাব ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিশ্লেষণ
DA Arrears Payment: রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রদান নিয়ে সাম্প্রতিক সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ গাণিতিক কৌশল সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর, রাজ্য সরকার কীভাবে ধাপে ধাপে বকেয়া টাকা মেটানোর পরিকল্পনা করেছে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হিসাব, যা মূলত শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকাকে মান্যতা দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও রাজ্যের কৌশল
ডিএ মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কর্মীদের মোট বকেয়া পাওনার অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। একদিকে আদালত অবমাননার মামলা, অন্যদিকে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টকে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি নিজেদের রিভিউ পিটিশন টিকিয়ে রাখতে রাজ্য ঠিক ২৫ শতাংশ পাওনা মেটানোরই ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করেছে।
বকেয়া মেটানোর গাণিতিক ভিত্তি
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকার কোন সময়ের ভিত্তিতে এই টাকার হিসাব কষছে? সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হিসাবের ভিত্তি বছর হিসেবে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ সময়কালকে ধরা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট চার বছরে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী যে টাকা বকেয়া রয়েছে, সরকার তার ঠিক অর্ধেক অংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মজার বিষয় হলো, যাঁরা ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল ছিলেন বা বর্তমানে পেনশনভোগী, তাঁদের দীর্ঘ ১১ বছরের মোট বকেয়ার সাপেক্ষে এই হিসাবটি নিখুঁতভাবে মিলে যায়। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থ, প্রকৃতপক্ষে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের সামগ্রিক বকেয়ার ঠিক ২৫ শতাংশের সমান। অর্থাৎ, শীর্ষ আদালত যে পরিমাণ অর্থ মেটানোর কথা বলেছিল, সরকার অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই অঙ্কটিতেই পৌঁছেছে।
কবে এবং কীভাবে মিলবে টাকা?
এই প্রদেয় অর্থ কোনো এককালীন কিস্তিতে পাওয়া যাবে না। সরকার এটিকে দুটি সমান ভাগে বিভক্ত করেছে, যাতে রাজ্যের কোষাগারের ওপর হঠাৎ করে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
- প্রথম ধাপ: ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এটি মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশের সমতুল্য।
- দ্বিতীয় ধাপ: একই বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাকি অংশের টাকা বা দ্বিতীয় কিস্তি মেটানো হবে।
আগামী দিনের আইনি পদক্ষেপ
প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পর রাজ্য সরকারকে পুনরায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে ঠিক কত শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলো, তার একটি বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এরপর ১৫ই এপ্রিল আদালত পুনরায় এই মামলার শুনানি করবে। সেদিনই বিচারকরা মূল্যায়ন করবেন যে রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে পালন করেছে কি না। এর পাশাপাশি সরকারের দায়ের করা মডিফিকেশন ও রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যতও এই শুনানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।