DA Arrears: ৩১শে মার্চের মধ্যে কি বকেয়া ডিএ পাবেন শিক্ষকরা? জেনে নিন বড় আপডেট
DA Arrears: মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর রাজ্যের সমস্ত স্তরের কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্যের অধীনস্থ সকল কর্মচারী এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে এবং অবশিষ্ট অংশের প্রথম কিস্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশের পর প্রশাসন থেকে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি এবং অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে অস্পষ্টতা ও বৈষম্যের অভিযোগ
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলির শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি একেবারেই পরিষ্কার নয়। তাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে হিসাব আসার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা হয়নি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই বৈষম্য প্রকট। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত পোর্টাল WBIFMS-এ ইতিমধ্যেই ই-সার্ভিস বুক আপলোড করার কাজ জোরকদমে চলছে। অন্যদিকে, শিক্ষকদের জন্য ব্যবহৃত ওএসএমএস (OSMS) পোর্টালে এখনও পর্যন্ত কোনো রকম তৎপরতা চোখে পড়েনি। অথচ, শিক্ষকদের বহু পুরনো তথ্য এই পোর্টালেই ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত রয়েছে, যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সহজ।
শিক্ষক সংগঠনের প্রধান দাবি
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ‘অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ সরাসরি স্কুল শিক্ষা কমিশনার এবং অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারির কাছে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া। রাজ্য সরকারি কর্মীদের নির্দেশিকায় এই নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়ার উল্লেখ থাকলেও, শিক্ষকদের বিজ্ঞপ্তিতে তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।
এছাড়াও, আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষা দপ্তরের সাথে যুক্ত সমস্ত পেনশনারদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটানোর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি
যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশাসন তাদের দাবি মেনে না নেয়, তবে শিক্ষক সংগঠনগুলি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ জানানো হবে। এর পাশাপাশি, মার্চ মাসের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা না পেলে, সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা দায়ের করারও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। এখন দেখার বিষয়, সরকার দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।