DA Arrears: বকেয়া ডিএ-র ঘোষণা তো হল, কিন্তু বিজ্ঞপ্তি কোথায়? বড় প্রশ্ন
DA Arrears: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এল একটি বড়সড় খবর। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, সরকারি কর্মীরা ২০০৯ রোপা (ROPA) নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পেতে চলেছেন। তবে এই ঘোষণা আসার পরেও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, কারণ এখনও পর্যন্ত নবান্ন থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।
দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং শীর্ষ আদালতের রায়
রাজ্য সরকারের কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। ২০১৬ সাল থেকে এই নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত জল গড়িয়েছে। রাজ্য সরকার বারবার এই মামলায় হেরে যায়। অবশেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে মেটাতে হবে এবং প্রথম দফার টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেশ শীর্ষ আদালতের চাপে পড়েই রাজ্য এই ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছে কর্মী সংগঠনগুলি।
কাদের অ্যাকাউন্টে আসবে এই বকেয়া ডিএ?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শুধুমাত্র সাধারণ সরকারি কর্মীরাই নন, আরও অনেকেই এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।
- রাজ্য সরকারি কর্মী: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা।
- শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী: সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং অশিক্ষক কর্মীরা।
- অন্যান্য কর্মী: পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন বোর্ড বা কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা।
কর্মচারী ও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণায় কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অনেকেই। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ থেকে শুরু করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো একাধিক কর্মী সংগঠনের নেতাদের দাবি, দশ বছরের এই লড়াইয়ের জয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই সম্ভব হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে এখনও তাঁদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি, বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি একে স্রেফ ‘ভোটের চমক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের ভাতাও ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যের কোষাগারে কেমন প্রভাব পড়বে?
নির্বাচনের আগে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প এবং এই বিশাল বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ঘোষণার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের কোষাগারের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। আগামী দিনে কীভাবে এই বিশাল অংকের টাকা মেটানো হবে এবং ভোটের পর কোষাগারের পরিস্থিতি ঠিক কেমন দাঁড়াবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।