All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
নির্দেশিকা

Election Commission Order: এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা! বয়সের প্রমাণ হিসেবে বাতিল মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড

Election Commission Order: নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নথিপত্র যাচাইকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সামনে এসেছে। রাজ্যের অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার হতে চলেছেন বা যাদের নথিপত্রে সংশোধন প্রয়োজন, তাদের জন্য এই খবরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশনের সাম্প্রতিকতম ঘোষণা অনুযায়ী, বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে আর মান্যতা দেওয়া হবে না। এতদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ধারণা ছিল, এই নির্দেশের ফলে তাতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভারতের নির্বাচন কমিশন বা ECI স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আর কোনোভাবেই মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। পূর্বে মনে করা হচ্ছিল যে, যেহেতু অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষার্থীর জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে, তাই ভোটার কার্ডের আবেদন বা সংশোধনের সময় সেটিকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে ভোটার সংক্রান্ত কোনো কাজে বয়সের প্রমাণ হিসেবে এই নথিটি পেশ করলে তা গ্রাহ্য হবে না।

প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষাপট

এই সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি, এর পেছনে রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিশনের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদানের ঘটনা। বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে গেলে নিচের বিষয়গুলি লক্ষ্য করা প্রয়োজন:

  • রাজ্য কমিশনের প্রস্তাব: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তরের পক্ষ থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রাজ্যের বহু মানুষের, বিশেষ করে যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন বা যাদের আনুষ্ঠানিক জন্ম শংসাপত্র নেই, তাদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডটি একটি বড় ভরসা। তাই সেটিকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার আর্জি জানানো হয়েছিল।
  • কেন্দ্রীয় কমিশনের অবস্থান: জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের এই প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার পর তা খারিজ করে দেয়। কমিশনের মতে, ভোটার তালিকা ভেরিফিকেশন বা SIR প্রক্রিয়ার জন্য যে মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ‘ভ্যালিড ডকুমেন্ট’ বা বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়।

কেন তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি?

সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যখন রাজ্য স্তরের আধিকারিকরা এই নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তখন অনেকের মনেই আশা জেগেছিল যে অ্যাডমিট কার্ড দিয়েই হয়তো কাজ মিটে যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে, যাদের বার্থ সার্টিফিকেট বা অন্যান্য নথি জোগাড় করা কষ্টসাধ্য, তাদের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর হতে পারত।

কিন্তু প্রথমে নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার ইঙ্গিত এবং পরবর্তীতে কমিশনের কড়া হাতে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে সাধারণ আবেদনকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। প্রশাসনিক স্তরে নির্দেশিকার এই পরিবর্তন এবং প্রস্তাব বাতিলের ঘটনা প্রক্রিয়ার স্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ

কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর, সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যারা আসন্ন দিনে ভোটার তালিকায় নাম তোলাবেন বা ভুল সংশোধন করবেন, তারা যেন বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের ওপর নির্ভর না করেন। এর পরিবর্তে জন্ম শংসাপত্র বা কমিশন অনুমোদিত অন্যান্য বৈধ নথিপত্র প্রস্তুত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা অমান্য করলে আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button