বিবিধ

Electoral Roll 2026: ডিলিটেড এবং আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ভোটার নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার কী করবেন?

Polling Officer Working With Evm Vvpat Election
Polling Officer Working With Evm Vvpat Election

এক নজরে

  • আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেশ কিছু নতুন স্ট্যাম্প ও সংকেত যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
  • 'Deleted after Adjudication by Judicial Officers' স্ট্যাম্পযুক্ত ব্যক্তিরা কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন না।
  • 'Under Adjudication' তালিকাভুক্ত ভোটারদেরও চূড়ান্ত হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • ভোটকর্মীদের ডিসি থেকে রোল সংগ্রহের সময় শেষ পৃষ্ঠার পরিসংখ্যান এবং স্ট্যাম্প খুব ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে।
  • কীভাবে এই নতুন হিসাব মেলাবেন তার বিস্তারিত উদাহরণ নিচে আলোচনা করা হলো।

Electoral Roll 2026: আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এবারের তালিকায় বেশ কিছু রদবদল আর নতুন ধরনের স্ট্যাম্প যুক্ত করা হয়েছে যা আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে, যে সমস্ত ভোটারদের নাম বিচার প্রক্রিয়ার (Adjudication) মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে ভোটকর্মীদের জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন জারি হয়েছে। এই নির্দেশিকাগুলো রপ্ত করতে না পারলে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারদের বড় ধরনের আইনি ও গাণিতিক জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূচিপত্র

তালিকায় নতুন স্ট্যাম্পের গুরুত্ব

ভোটের ডিউটিতে গিয়ে ভোটার তালিকা বা ইলেক্টোরাল রোল হাতে পাওয়ার পর প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের দুটি বিশেষ স্ট্যাম্পের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। আগে যাদের নামের পাশে “Under Adjudication” বা বিচার প্রক্রিয়ার অধীনস্থ লেখা ছিল, তাদের ভাগ্য এবার নির্ধারিত হয়ে গেছে।

যাদের নাম শেষ পর্যন্ত বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে, তাদের নামের ওপর থেকে ওই তকমা তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা সাধারণ ভোটারদের মতোই কোনো বাধা ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অন্যদিকে, যাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাঁদের নামের ওপর লাল বা নীল কালিতে “Deleted after Adjudication by Judicial Officers” স্ট্যাম্পটি মারা হয়েছে। মনে রাখা জরুরি, এই স্ট্যাম্পযুক্ত কোনো ব্যক্তি বুথে এসে কোনো অবস্থাতেই ভোট দিতে পারবেন না।

Advertisement

হাতে-কলমে হিসেব: একটি উদাহরণ

ভোটকর্মীদের জন্য ভোটার তালিকার শেষ পৃষ্ঠার পরিসংখ্যানটি বোঝা সবথেকে বেশি জরুরি। ডিউটির মালপত্র বা ডিসি (Distribution Centre) থেকে জিনিসপত্র বুঝে নেওয়ার সময় এই পাতাটি মিলিয়ে দেখে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

একটি বুথের হিসাব এখানে দেওয়া হলো:

  • ধরাযাক, প্রাথমিক তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন ৮০০ জন।
  • পরবর্তীতে ২ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা ভোটার নতুন করে যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৮০৩।
  • এরপর “Under Adjudication” হিসেবে ২ জনকে এবং বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে (Deleted after Adjudication) আরও ৩০০ জনকে তালিকা থেকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
  • ফলে, মোট ৮০৩ জন ভোটারের মধ্যে ৩০২ জনকে বাদ দিলে চূড়ান্ত যোগ্য ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫০১ জন (২৫২ জন পুরুষ এবং ২৪৯ জন মহিলা)।

ভোটকর্মীদের জন্য সতর্কতা ও নির্দেশিকা

এই নতুন নিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোটের দিন ফর্ম ফিলআপ এবং বুথের চূড়ান্ত হিসেব মেলাতে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, “Under Adjudication” এবং “Deleted after Adjudication” স্ট্যাম্পযুক্ত ভোটারদের মোট যোগ্য ভোটারের হিসেব থেকে পুরোপুরি সরিয়ে রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টও নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। বাতিল হওয়া ভোটাররা কমিশনের পোর্টালে অনলাইনে আপিল করার সুযোগ পেলেও, ভোটের দিন বুথে কোনো আপিলের কাগজ দেখিয়ে ভোট দেওয়ার কোনো আইনি সংস্থান রাখা হয়নি।

ভোটগ্রহণ শেষ করার পর প্রিসাইডিং অফিসার যখন ১৭সি (Form 17C) ফর্ম পূরণ করবেন, তখন এই মোট ভোটারের সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরের উদাহরণ অনুযায়ী, ফর্ম ১৭সি-তে মোট ভোটার কোনোভাবেই ৮০৩ লেখা যাবে না, সেখানে লিখতে হবে ৫০১ জন। এক্ষেত্রে ফার্স্ট পোলিং অফিসারকে সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকতে হবে। যদি ভুলবশত কোনো বাতিল হওয়া ভোটার ভোট দিয়ে ফেলেন, তবে কন্ট্রোল ইউনিটের হিসেব আর রেজিস্টারের হিসেব মিলবে না। এতে প্রিসাইডিং ডায়েরি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিধিবদ্ধ ফর্মে মারাত্মক ত্রুটি থেকে যাবে। তাই পোলিং অফিসারদের ভোট শুরুর আগে থেকেই স্ট্যাম্পগুলো খুব সতর্কভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>