টাকা-পয়সা

Emergency Fund: বিপদের দিনের জন্য এমার্জেন্সি ফান্ড কতটা জমাবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

Emergency Fund
Emergency Fund

Emergency Fund: জীবন বড়ই অনিশ্চিত। সব সময় সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে না। হটাৎ করে চাকরি চলে যাওয়া বা বড় কোনও শারীরিক অসুস্থতার মতো ঘটনা আগে থেকে জানিয়ে আসে না। আর ঠিক এই কঠিন সময়েই সবথেকে বেশি প্রয়োজন হয় টাকার। হাতে যদি পর্যাপ্ত সঞ্চয় না থাকে, তবে মানুষকে বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে আপস করতে হয়। এখানেই গুরুত্ব পায় ‘এমার্জেন্সি ফান্ড’ বা আপৎকালীন তহবিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঠিক কত টাকা এই ফান্ডে রাখা উচিত? চলুন ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক।

সূচিপত্র

এমার্জেন্সি ফান্ড আসলে কী এবং কেন প্রয়োজন?

সহজ কথায়, এমার্জেন্সি ফান্ড হলো এমন এক সঞ্চয় যা শুধুমাত্র আকস্মিক আর্থিক সংকটের সময়েই ব্যবহার করা উচিত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেলেও বা বড় খরচ সামনে এলেও যেন আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থমকে না যায়।

এই তহবিল দিয়ে বাড়ি ভাড়া বা ইএমআই (EMI), মুদি খরচ, ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম, যাতায়াত, চিকিৎসা এবং স্কুলের ফি-র মতো অত্যাবশ্যকীয় খরচ মেটানো হয়। মনে রাখবেন, ছুটি কাটানো, শপিং করা বা বিলাসিতার জন্য এই টাকা জমানো হয় না।

Advertisement

আপনার কত টাকার এমার্জেন্সি ফান্ড দরকার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের খরচের সমান টাকা জমানো উচিত। তবে সবার ঝুঁকি বা ‘রিস্ক প্রোফাইল’ সমান নয়। আপনার চাকরি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই টাকার অঙ্ক কম-বেশি হতে পারে।

১. কম ঝুঁকি (৩ মাসের খরচ):
যাঁদের সরকারি বা খুব সুরক্ষিত চাকরি রয়েছে এবং মাথায় ঋণের বোঝা কম, তাঁদের জন্য ৩ মাসের খরচ জমা রাখাই যথেষ্ট। এছাড়া যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উপার্জন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ৩ মাসের এমার্জেন্সি ফান্ড ‘সেফটি কুশন’ হিসেবে কাজ করে।

২. মাঝারি ঝুঁকি (৬ মাসের খরচ):
অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অন্তত ৬ মাসের খরচ জমা রাখা উচিত। বিশেষ করে যদি পরিবারে একজন মাত্র রোজগেরে সদস্য থাকেন, ফ্রিল্যান্সার হন বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। এছাড়াও যদি আপনার ওপর মাঝারি মাপের ঋণের বোঝা থাকে, তবে ৬ মাসের এমার্জেন্সি ফান্ড থাকা বাঞ্ছনীয়।

৩. উচ্চ ঝুঁকি (৯-১২ মাসের খরচ):
যাঁদের আয় অনিয়মিত, যেমন ব্যবসায়ী বা ফ্রিল্যান্সার, তাঁদের অর্থনৈতিক মন্দার সময় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তাঁদের অন্তত ৯ থেকে ১২ মাসের খরচ জমা রাখা দরকার। এছাড়া পরিবারে যদি বয়স্ক বা অসুস্থ সদস্য থাকেন যাদের চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রেও ১ বছরের খরচ হাতে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে এই ফান্ড তৈরি করবেন?

একদিনে বড় অঙ্কের টাকা জমানো সম্ভব নয়। তাই ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন:

  • খরচের হিসাব করুন: সবার আগে আপনার মাসিক অত্যাবশ্যকীয় খরচ (বাড়ি ভাড়া, খাবার, বিল ইত্যাদি) কত তা হিসাব করুন।
  • আলাদা অ্যাকাউন্ট: বেতন বা আয়ের টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই একটি নির্দিষ্ট অংশ অটো-ট্রান্সফারের মাধ্যমে আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা লিকুইড ফান্ডে সরিয়ে ফেলুন।
  • ধারাবাহিকতা: অল্প করে হলেও নিয়মিত টাকা জমান। এটি আপনার মূল বাজেটকে প্রভাবিত না করেই ধীরে ধীরে একটি বড় তহবিল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

বিপদ আসার আগে প্রস্তুতি নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আজই আপনার এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা শুরু করুন।

দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞর সাথে পরামর্শ করুন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>