নির্দেশিকা

Form 17A Rules: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটারস রেজিস্টার 17A পূরণের নিয়ম

Polling Officer Desk Control Unit Election Duty
Polling Officer Desk Control Unit Election Duty

এক নজরে

  • Form 17A Rules: প্রথম ভোটারের এন্ট্রির আগে ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিটে শূন্য ভোট নিশ্চিত করার নিয়ম।
  • ফর্মের ওপর নির্দিষ্ট বাক্য লিখে প্রথম পোলিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরের নির্দেশিকা।
  • ভোটদান সমাপ্ত হলে অনুভূমিক রেখা টেনে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা।
  • সঠিকভাবে রেজিস্টার পূরণ করলে আরসি-তে (Receiving Centre) দ্রুত হিসাব মেলানোর সুবিধা এবং স্ক্রুটিনি থেকে সুরক্ষা।

Form 17A Rules: ভোটের ডিউটি মানেই পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বের তালিকার একেবারে ওপরের দিকেই থাকে ফর্ম ১৭এ (Form 17A) বা ভোটারস রেজিস্টারের নাম। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ফর্মে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য নথিভুক্ত করা এবং নিয়ম মেনে স্বাক্ষর করা শুধু প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং বাধ্যতামূলক।

সূচিপত্র

ভোটকর্মীদের কাজে এই ফর্মের প্রভাব ঠিক কতটা?

কমিশনের অফিশিয়াল নিয়ম মেনে ফর্ম ১৭এ যথাযথভাবে পূরণ করলে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কাজ অনেকখানি সহজ হয়ে যায়। এর সরাসরি কিছু সুফলের কথা নিচে দেওয়া হলো:

  • আরসি-তে হয়রানি থেকে মুক্তি: ডিসি বা আরসি-তে (Receiving Centre) সামগ্রী জমা দেওয়ার সময় ফর্ম ১৭এ-র হিসাব খুব খুঁটিয়ে দেখা হয়। এই রেজিস্টারের এন্ট্রি নির্ভুল থাকলে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দ্রুত মেটে এবং ভোটকর্মীরাও তাড়াতাড়ি রিলিজ পান।
  • ফর্ম ১৭সি-র সঙ্গে সামঞ্জস্য: ভোটগ্রহণ শেষে ফর্ম ১৭সি-তে (অ্যাকাউন্ট অফ ভোটস) যত ভোট রেকর্ড করা হয়েছে এবং কন্ট্রোল ইউনিটে (CU) যা দেখাচ্ছে, তার সঙ্গে ফর্ম ১৭এ-র শেষ সিরিয়াল নম্বরটি হুবহু মেলা চাই।
  • আইনি সুরক্ষা: কমিশনের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও যদি ফর্মে অনুভূমিক রেখা না টানা হয় বা সই বাকি থাকে, তবে মাইক্রো-অবজারভারের রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মীদের কৈফিয়ত তলব করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সঠিক নথিবদ্ধকরণ অফিসারদের অযাচিত আইনি বা দাপ্তরিক জট থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
Advertisement

ভোট শুরুর আগে যা যা করতে হবে

ভোটের মেশিন চালু করার ঠিক আগে পোলিং অফিসারদের কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ পার করতে হয়:

  • কন্ট্রোল ইউনিট পরীক্ষা: প্রথম ভোটার ফর্ম ১৭এ-তে সই করার আগে প্রিসাইডিং ও প্রথম পোলিং অফিসারকে নিশ্চিত হতে হবে যে ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিটে আগের কোনো ভোট জমা নেই। অর্থাৎ, ডিসপ্লে-তে ভোটের সংখ্যা যেন ‘শূন্য’ থাকে।
  • নির্দিষ্ট ঘোষণা: ফর্মের ওপরের ফাঁকা অংশে পেন দিয়ে স্পষ্টভাবে লিখতে হবে— “Total in the Control Unit checked and found to be zero”।
  • স্বাক্ষর: এই ঘোষণাটি লেখার ঠিক নিচেই প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রথম পোলিং অফিসারকে নিজেদের সই করতে হবে। এই কাজটুকু শেষ করার পরেই প্রথম ভোটারের এন্ট্রি নেওয়া যাবে।

ভোট শেষ হওয়ার পর করণীয়

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বা শেষ ভোটারটি ভোট দিয়ে দিলে রেজিস্টারটি সঠিকভাবে বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে কোনোভাবেই আর নতুন এন্ট্রি বা কারচুপি করার সুযোগ থাকে না:

  • রেখা টানা: শেষ ভোটারের নাম-ধাম লেখার ঠিক নিচেই পেন দিয়ে এক বা একাধিক আড়াআড়ি বা অনুভূমিক রেখা (Horizontal line) টেনে দিন। রেখাটি এমনভাবে টানতে হবে যাতে ওই পাতায় আর কোনো এন্ট্রি করার জায়গা না থাকে।
  • সমাপ্তি বাক্য: টানা রেখার নিচে ইংরেজিতে লিখতে হবে— “The last serial number of voters register form 17A is [মোট ভোটারের সংখ্যা]”। ধরা যাক, সারাদিনে ৮৫০ জন ভোট দিয়েছেন, তবে সংখ্যাটি হবে ৮৫০।
  • যাঁদের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক:
    • প্রিসাইডিং অফিসার: বাক্যের নিচে তারিখসহ পূর্ণ স্বাক্ষর করবেন।
    • দ্বিতীয় পোলিং অফিসার: সারাদিন তিনি এই ফর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাই তাঁর সই থাকাও জরুরি।
    • পোলিং এজেন্ট: বুথে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলির এজেন্টদের স্বাক্ষর অবশ্যই নিতে হবে।
    • ডিস্টিংগুইশিং মার্ক: নির্দিষ্ট জায়গায় বুথের ডিস্টিংগুইশিং মার্ক দিতে ভুলবেন না। প্রথম ও তৃতীয় পোলিং অফিসারের স্বাক্ষর এখানে ঐচ্ছিক।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ কড়া বার্তা

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ফর্ম ১৭এ এবং ১৭সি-র তথ্যে সামান্য অসঙ্গতি থাকলেও নির্বাচন কমিশন এখন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিচ্ছে। ভোটগণনার দিন রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ইভিএম-এর স্বচ্ছতা প্রমাণের অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো এই রেজিস্টার। যদি ফর্মে এজেন্টদের সই না থাকে বা শেষে লাইন টানা না হয়, তবে পুরো বুথের ভোটপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। তাই আরসি-র দিকে রওনা দেওয়ার আগে এই নিয়মগুলো একবার মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>