পশ্চিমবঙ্গ

Jubasathi Krishak Bandhu: যুবসাথী ও অন্যান্য প্রকল্পের দ্বৈত সুবিধা নিয়ে সরকারি সতর্কবার্তা

Jubasathi Krishak Bandhu
Jubasathi Krishak Bandhu

Jubasathi Krishak Bandhu: রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করেছে। গত ৮ই মার্চ থেকে অনেকেই নিজেদের মোবাইলে টাকা ঢোকার মেসেজ পেয়েছেন এবং সোমবার থেকে সরাসরি অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ ক্রেডিট হয়েছে। তবে এই অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় একটি বড়সড় অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেখা গেছে, যারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তারাও নতুন এই প্রকল্পের টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে।

Table of Contents

যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার শিথিলতা

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট কলামে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আবেদনকারী রাজ্য সরকারের অন্য কোনো সহায়তা পান কিনা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক আবেদনকারী বাস্তবে অন্য সরকারি সুবিধা পেলেও ফর্মে ‘না’ অপশনটি বেছে নিয়েছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদনপত্রগুলি যখন ডিজিটালি নথিভুক্ত করা হয়, তখন উপযুক্ত ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণের চরম অভাব ছিল। শুধুমাত্র ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আধিকারিকরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন, যার জেরে একই ব্যক্তি জোড়া সুবিধা উপভোগ করছেন।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও দ্বৈত সুবিধার সমীকরণ

রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্য কোনো সরকারি ভাতা প্রাপকরা যুবসাথীর সুবিধা পাবেন না। প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে, আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে এবং শিক্ষাগত বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়া চলবে না। যদিও ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পকে সরাসরি ভাতা না বলে সহায়তা প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়, তবুও নিয়ম অনুযায়ী এর সুবিধাভোগীদের যুবসাথীতে আবেদন করা অনুচিত। তা সত্ত্বেও অনেকেই একসঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু এবং যুবসাথীর টাকা পাচ্ছেন।

আইনি ব্যবস্থা বনাম বাস্তব চিত্র

নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনপত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং সুবিধা বাতিল হতে পারে। যুবসাথী ফর্মের তিন নম্বর পয়েন্টে এই বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া রয়েছে। তবে অতীতের কিছু ঘটনা অন্য কথা বলছে। বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বার্ধক্য ভাতা বা বিধবা ভাতা প্রাপকের মৃত্যুর পরেও বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা সেই টাকা তুলেছেন। এমনকি কৃষকবন্ধুর ক্ষেত্রেও মৃত ব্যক্তির টাকা এটিএম থেকে তোলা হয়েছে এবং পরে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হলেও কাউকে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়নি বা টাকা ফেরত দিতে হয়নি। তবে ভবিষ্যতে প্রশাসন যদি কড়া ভেরিফিকেশনের পথে হাঁটে, তবে যারা তথ্য গোপন করে এই দ্বৈত সুবিধা নিচ্ছেন তাদের টাকা পাওয়া চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সঠিক তথ্য প্রদান করাই সবথেকে নিরাপদ উপায়।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>