LPG Cylinder Rules: আরো বাড়লো রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান! শহর ও গ্রামের জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে হবে দেখুন
LPG Cylinder Rules: সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে ফের বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। একদিকে যেমন রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাস পাওয়া নিয়ে একটি অহেতুক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।
শহর ও গ্রামের জন্য নয়া নিয়ম
এতদিন গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ছিল। এবার থেকে পরপর দুটি সিলিন্ডার বুক করার মাঝের সময়ের ব্যবধান আরও বাড়ানো হয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে বসবাসকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একটি গ্যাস নেওয়ার পর দ্বিতীয়টি বুক করতে হলে অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, গ্রাম্য এলাকার গ্রাহকদের জন্য এই নিয়ম আরও কড়া। গ্রামে দুটি বুকিংয়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪৫ দিনের ব্যবধান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন এমন কড়াকড়ি
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় যাতে অবৈধভাবে ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালির গ্যাস ব্যবহার না করা হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, বুকিং করার আড়াই দিনের মধ্যেই গ্যাস বাড়িতে পৌঁছে যাবে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও দেশের পরিস্থিতি
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সামরিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিলেও ভারতে তার খুব একটা প্রভাব পড়েনি। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বিদেশ থেকে কেনে, যার বেশিরভাগটাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ওই পথে পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় আমদানি কিছুটা কমলেও, সরকার দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। গত ৮ মার্চ জারি করা নির্দেশের পর দেশে উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত বর্তমানে ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আনছে এবং নিয়মিত এলএনজি কার্গো বিকল্প পথে দেশে প্রবেশ করছে।
দাম বৃদ্ধির আঁচ
চলতি মাসেই রান্নার গ্যাসের দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় ৬০ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে একটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ পড়ছে ৯৩৯ টাকা। দাম বাড়লেও পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনের মতো কোনো জ্বালানিরই অভাব নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।