Mixed Polling Party: ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এবং ভোটকর্মীর ঘাটতি মেটাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ভোটকেন্দ্রের ভেতরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশেষ ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কর্মী সংকট মেটাতে ‘মিক্সড পোলিং পার্টি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Table of Contents
মিক্সড পোলিং পার্টি গঠন
রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোটকর্মীর অভাব পূরণে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের সমন্বয়: কর্মী ঘাটতি থাকলে শুধুমাত্র পুরুষ কর্মীদের বদলে পুরুষ এবং মহিলা কর্মীদের নিয়ে মিক্সড পোলিং পার্টি গঠন করা যাবে।
- যেকোনো পদে নিয়োগ: এই মিশ্র দলে প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে মহিলা বা পুরুষ কর্মীকে নিয়োগ করা যেতে পারে।
- কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীর ভারসাম্য: প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রথম পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহিলা ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
মহিলা ভোটকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।
- অল-উইমেন পোলিং স্টেশন: যেসব বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলা ভোটকর্মী দ্বারা পরিচালিত হবে, সেখানে আবশ্যিকভাবে মহিলা সেন্ট্রাল ফোর্স বা সশস্ত্র মহিলা পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
- পর্যাপ্ত পরিকাঠামো: মিক্সড পোলিং পার্টির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের জন্য বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করতে হবে।
বিএলও (BLO)-দের বিশেষ দায়িত্ব
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণ পোলিং পার্সোনেল ডাটাবেসে আর বিএলও-দের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। অর্থাৎ তাঁরা বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হিসেবে কাজ করবেন না।
- ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ (VAB): প্রতিটি বুথের বাইরে স্থাপিত ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথে বিএলও-রা দায়িত্ব পালন করবেন।
- মোবাইল ফোন জমা রাখা: ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকায় এ বছর বিএলও-দের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভোটারদের মোবাইল ফোন জমা রাখার বিষয়টি তদারকি করতে হবে।
- ভোটারদের সহায়তা: ভোটারদের বুথ নম্বর, ভোটার লিস্টে নাম খোঁজা বা অন্যান্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন তাঁরা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের সেকেন্ড এডিশন প্রিসাইডিং অফিসার হ্যান্ডবুকটিকেই প্রামাণ্য হিসেবে ধরতে হবে। অনেক জায়গায় যদি এই হ্যান্ডবুক পৌঁছাতে দেরি হয় তবে ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ডিসি (Distribution Centre) বা ডেসপ্যাচ সেন্টার থেকে তা অবশ্যই সংগ্রহ করে নিতে বলা হয়েছে। এর ফলে ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং পোলিং অফিসারদের দায়িত্ব পালনে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হবে না।
ভোটকর্মীদের উপর এই নির্দেশিকার প্রভাব (Impact)
এই নতুন নিয়মের ফলে সরকারি কর্মচারীদের দৈনন্দিন ডিউটিতে বেশ কিছু কার্যকরী প্রভাব পড়বে:
১. কাজের চাপ ও স্বস্তি: বিএলও-রা বুথের বাইরে ভোটারদের মোবাইল ফোন জমা রাখার দায়িত্ব নিলে বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসারদের কাজ অনেক সহজ হবে এবং মোবাইল সংক্রান্ত বচসা কমবে।
২. নিয়োগের সম্ভাবনা: বিএলও-দের সাধারণ পোলিং ডিউটি থেকে বাদ দেওয়ার ফলে অন্যান্য সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে।
৩. নিরাপত্তায় জোর: মহিলা কর্মীদের জন্য বিশেষ সশস্ত্র বাহিনী এবং উন্নত পরিকাঠামো বাধ্যতামূলক করায় তাঁদের মধ্যে ডিউটি সংক্রান্ত আতঙ্ক অনেকটাই কমবে।
৪. হ্যান্ডবুক পরিচিতি: পুরোনো নিয়মের হ্যান্ডবুক ব্যবহার হওয়ার ফলে অভিজ্ঞ ভোটকর্মীদের নতুন করে জটিল কোনো নিয়মের সম্মুখীন হতে হবে না। এছাড়া ভোটের দিন মক পোল (Mock Poll) থেকে শুরু করে ভোট শেষের সিলিং প্রক্রিয়া পর্যন্ত সমস্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
৫. সহজ পরিচালনা: মিক্সড পোলিং পার্টির মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে কাজের আদানপ্রদান হবে যা সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করে তুলবে।
সূত্র: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের গাইডলাইন