Polling Personnel Remuneration: ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) একটি বহু প্রতীক্ষিত ঘোষণা করেছে, যা সারা দেশের লক্ষ লক্ষ নির্বাচন কর্মীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ২৫শে আগস্ট, ২০২৫-এ জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে, কমিশন নির্বাচন দায়িত্বে থাকা কর্মীদের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এই পদক্ষেপটি সেই সমস্ত কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি, যারা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখেন। এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচন কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে এবং তাদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূচিপত্র
বিস্তারিত তথ্য
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে পারিশ্রমিক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি কর্মীদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং তাদের কাজের সংবেদনশীল প্রকৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শেষবার পারিশ্রমিক সংশোধন করা হয়েছিল। নতুন এই ঘোষণায় বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা হারে পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে, যা তাদের দায়িত্ব ও কাজের চাপের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোন পদে কত পারিশ্রমিক বাড়ল?
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভিন্ন পদের কর্মীদের পারিশ্রমিকের হার নিচে দেওয়া হলো:
- প্রিসাইডিং অফিসার ও কাউন্টিং সুপারভাইজার: তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক ₹350 থেকে বাড়িয়ে ₹500 করা হয়েছে।
- পোলিং অফিসার (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়): তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক ₹250 থেকে বাড়িয়ে ₹400 করা হয়েছে।
- কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক ₹250 থেকে বাড়িয়ে ₹450 করা হয়েছে।
- চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী: তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক ₹200 থেকে বাড়িয়ে ₹350 করা হয়েছে।
- মাইক্রো অবজারভার: তাদের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ করে ₹1000 থেকে ₹2000 করা হয়েছে।
- হোম গার্ড/স্বেচ্ছাসেবক: তাদের দৈনিক পারিশ্রমিক ₹150 থেকে বাড়িয়ে ₹500 করা হয়েছে।
অন্যান্য বর্ধিত অর্থপ্রদান
কমিশন আরও কিছু ক্ষেত্রে অর্থপ্রদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
- কন্ট্রোল রুম/কল সেন্টার কর্মী ও মনিটরিং টিম: গ্রুপ ১ এবং ২-এর জন্য ₹3000 এবং গ্রুপ ৩-এর জন্য ₹2000 টাকা এককালীন প্রদান করা হবে।
- CAPF কর্মী (১৫ দিনের কম): তাদের ভাতা ₹2500 থেকে বাড়িয়ে ₹4000 করা হয়েছে।
- সেক্টর অফিসার/পুলিশ অফিসার: পূর্ণকালীন নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য তাদের ভাতা ₹7500 থেকে বাড়িয়ে ₹10000 করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি নির্বাচন কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আগামী দিনে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকরী করে তুলবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।