SLST Public Notice: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ যেন কিছুতেই কাটছে না। ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কমিশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক নোটিশ জারি করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয়া বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিটি আসন্ন স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট বা এসএলএসটি (SLST) নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী যারা এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আদালতের নির্দেশ ও বিজ্ঞপ্তির সারমর্ম
কলকাতা হাইকোর্টে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলা (WPA 12545 of 2025) বর্তমানে বিচারাধীন। এই মামলার শুনানিকালেই বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল প্রার্থীকে বর্তমান আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এসএসসি এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তির মূল বক্তব্য হলো, সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, কমিশন চাইলেই স্বাধীনভাবে নিয়োগ শেষ করতে পারবে না, যদি না আদালতের সবুজ সংকেত মেলে।
প্রার্থীদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা ও ‘ইক্যুইটি’ প্রসঙ্গ
এই বিজ্ঞপ্তির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর অংশটি হলো প্রার্থীদের অধিকার বা ‘ইক্যুইটি’ (Equity) সংক্রান্ত সতর্কতা। কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে:
- ভবিষ্যতে দাবি গ্রাহ্য হবে না: আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর কোনো প্রার্থী যদি মনে করেন যে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, তবে তারা তখন নতুন করে কোনো দাবি জানাতে পারবেন না।
- অংশগ্রহণের সুযোগ: যদি কোনো পরীক্ষার্থী মনে করেন যে এই মামলার রায় তাদের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে, তবে তাদের অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং মামলায় পক্ষভুক্ত (Party) হতে হবে। রায়ের পর আর কোনো অভিযোগ শোনা হবে না।
নিয়োগ বিধি ও অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে ধোঁয়াশা
নতুন এই নোটিশের ফলে নিয়োগের নিয়মাবলী বা রুলস নিয়েও বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর এবং কোন সালের রুলস মেনে নিয়োগ হবে, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নিচে এই সংক্রান্ত জটিলতাগুলি একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিচারাধীন বিষয় | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|
| অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর | ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণ আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে। |
| রুলস ২০২৫ (Rules 2025) | এসএসসির নতুন রুলস চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে। আদালত এটি বাতিল করলে পুরনো নিয়মে ফিরতে হতে পারে। |
| ২০১৯ সালের রুলস | মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ধাঁচে ৯০ নম্বরের লিখিত ও ১০ নম্বরের ইন্টারভিউ পদ্ধতি আদালত বিবেচনা করতে পারে। |
আগামীকাল বিভিন্ন সংবাদপত্রেও এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই আদালত এবং কমিশন আগেভাগে এই সতর্কবার্তা জারি করল। পরীক্ষার্থীদের এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং চূড়ান্ত রায়ের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।