শিক্ষা

SSC 10 Marks Case: এসএসসি নিয়োগে ১০ নম্বরের আইনি বৈধতা নিয়ে শুনানি সম্পন্ন

Calcutta High Court Justice Amrita Sinha
Calcutta High Court Justice Amrita Sinha

SSC 10 Marks Case: কলকাতা হাইকোর্টে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি আজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষত, এদিন আদালতের ৪৬ থেকে ৫২ নম্বর আইটেমে থাকা বহুল চর্চিত ‘১০ মার্কস’ মামলাটি ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। চাকরি হারানো প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর অতিরিক্ত দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত এবং আইনত বৈধ, তা নিয়েই মূলত দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং আইনজীবীদের যুক্তি থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা আগামী দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূচিপত্র

আইনি বৈধতাই যখন মূল প্রশ্ন

এদিনের শুনানিতে মাননীয় বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগতভাবে কে ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য আর কে নয়, তা দেখার আগে এই ‘১০ নম্বর’ দেওয়ার নিয়মটি বা পলিসিটি আদতে আইনসম্মত কি না, তা বিচার করা জরুরি। অর্থাৎ, আদালতের কাছে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে ‘ভ্যালিডিটি’ বা বৈধতার প্রশ্নটি। যদি দেখা যায় যে এই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আইনি কাঠামোয় টিকে থাকছে, তবেই পরবর্তী ধাপে উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এই একই পর্যবেক্ষণ প্যারা টিচার এবং ভোকেশনাল শিক্ষকদের ১০ নম্বরের মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement

অভিজ্ঞতার মূল্য ও পৃথক নির্বাচন প্রক্রিয়ার দাবি

পিটিশনারদের তরফে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবীরা, যেমন সুবীর স্যানাল ও অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, জোরদার যুক্তি পেশ করেন। তাঁদের মতে, যে শিক্ষকরা প্রায় ১০ বছর ধরে স্কুলে পড়িয়ে আসছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করা যায় না। আইনজীবীদের মূল বক্তব্যগুলি হলো:

  • পৃথক প্রক্রিয়ার অভাব: আইনজীবীরা উজ্জ্বল চ্যাটার্জি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি কমিশন শুরু থেকেই ‘ফ্রেশার’ এবং অভিজ্ঞ ‘ইন-সার্ভিস’ শিক্ষকদের জন্য আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া বা সিলেকশন প্রসেস চালু করত, তবে আজকের এই আইনি জটিলতা তৈরি হতো না। ২০০৯-১০ সালের প্রাথমিক নিয়োগে যেমন পুরনো ও নতুনদের আলাদা করে দেখা হয়েছিল, এখানেও তেমনটা করা উচিত ছিল। সবার পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়ার ফলে যোগ্য বা ‘Untainted’ শিক্ষকরা সমস্যার মুখে পড়েছেন।
  • প্যারা-টিচারদের উদাহরণ: প্রাইমারি শিক্ষায় প্যারা-টিচাররা তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য অ্যাপটিটিউড টেস্ট ছাড়াই সরাসরি ৫ নম্বর পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ এক দশক চাকরি করা এই সহকারী শিক্ষকরা কেন অভিজ্ঞতার সুফল হিসেবে ১০ নম্বর পাবেন না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

‘পলিসি ডিসিশন’ ও খেলার নিয়ম

শুনানিতে উঠে আসে ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ। অ্যাডভোকেট অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি ‘তেজ প্রকাশ’ জাজমেন্টের উল্লেখ করে বলেন, “খেলার মাঝখানে খেলার নিয়ম পরিবর্তন করা যায় না।” অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষ বা অথরিটি আগেই যে নীতি নির্ধারণ করেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন তা হুট করে বদলানো অনুচিত। এটি একটি প্রশাসনিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, যেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ সাধারণত সীমিত থাকে। অরুণিমা পাল মামলার ইতিহাস উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানেও ১০ নম্বরের বিষয়টি ছিল এবং আদালত তাতে বাধা দেয়নি।

ফ্রেশাররা কি সত্যিই বঞ্চিত?

১০ নম্বর দেওয়ার ফলে নতুন বা ফ্রেশার প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগের বিপক্ষে আইনজীবীরা কমিশনের তথ্য তুলে ধরেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • নবম-দশম শ্রেণি: ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ পর্বে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই ছিলেন ফ্রেশার, যেখানে কর্মরত শিক্ষক বা ইন-সার্ভিস ছিলেন মাত্র ১২ শতাংশ।
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: এই স্তরেও প্রায় ৫০ শতাংশ ফ্রেশার সুযোগ পেয়েছেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয় যে, অভিজ্ঞদের ১০ নম্বর দিলেও নতুনদের সুযোগ কোনোভাবেই সংকুচিত হচ্ছে না। আপাতত, এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি। সেখানেই ১০ নম্বরের আইনি বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>