WB 4% DA Notification: রাজ্য বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) কার্যকর হওয়া নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এই ভাতার কথা ঘোষণা করা হলেও, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত নবান্নের অর্থ দফতর থেকে কোনো অফিশিয়াল নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। এর ফলে এপ্রিলের বেতনে এই বর্ধিত ভাতা যুক্ত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা।
Table of Contents
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন। জানানো হয়, এই বর্ধিত হার ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ১ এপ্রিল পেরিয়ে ১০ এপ্রিল হয়ে গেলেও অর্থ দফতরের তরফে কোনো মেমো নম্বর বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
বেতনে কী প্রভাব পড়বে?
এই নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মীদের এপ্রিল মাসের বেতনে:
- পোর্টালে জটিলতা: নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের ২ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের পোর্টালে কর্মীদের বেতনের তথ্য সাবমিট করতে হয়।
- পুরনো হারেই বেতন: ৯ তারিখ পর্যন্ত কোনো নির্দেশিকা না আসায় প্রধান শিক্ষকরা বাধ্য হচ্ছেন পুরনো ১৮ শতাংশ হারেই বেতন বিল জমা করতে।
- বকেয়া পাওয়ার অপেক্ষা: মে মাসের শুরুতে যে বেতন কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তাতে এই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ থাকছে না। পরে নির্দেশিকা বেরোলে হয়তো তা এরিয়ার বা বকেয়া হিসেবে দেওয়া হতে পারে, অথবা সরকারের তরফে ফের পোর্টাল খুলে সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
- HRMS এ আপডেট: তবে এখনো যদি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয় এবং তা HRMS এ আপডেট করা হয় তবে এপ্রিল মাসের বেতনেই এই বর্ধিত ডিএ পেয়ে যাবেন কর্মীরা।
শিক্ষক সংগঠনগুলির ক্ষোভ ও ভোট-হুঁশিয়ারি
ঘোষণার দুই মাস পরেও নির্দেশিকা না আসায় শিক্ষক ও কর্মচারী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
- অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতির মতে, সমস্ত সরকারি কাজ শিক্ষকদের দিয়ে করানো হলেও, হেলথ স্কিম বা মহার্ঘ ভাতা সবেতেই তাঁরা বঞ্চিত।
- নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির (ABTA) সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসের কথায়, বিধানসভায় ঘোষণার প্রায় দু’মাস পরেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যের।
- বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এপ্রিল থেকে ডিএ লাগু করার কথা বললেও, নবান্ন থেকে অর্ডার বেরোয়নি। আর মাত্র সাত দিন পরেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব সেখানে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, আধিকারিকেরা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। খুব দ্রুত সকলেই এই ৪ শতাংশ বর্ধিত ডিএ পেয়ে যাবেন।