7th Pay Commission: ভোটের আগেই বড় পদক্ষেপ! সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যপালকে কড়া চিঠি সরকারি কর্মীদের
7th Pay Commission: রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বেতন কাঠামো সংক্রান্ত অসন্তোষ এবার এক নতুন মোড় নিল। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজেদের দাবি আদায়ে এবার সরাসরি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, অর্থাৎ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের দ্বারস্থ হল ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। রাজ্যের সরকারি কর্মী এবং শিক্ষকদের এই সংগঠনটি রাজ্যপালের কাছে সময় চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মীদের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।
রাজ্যপালের কাছে প্রধান দাবিগুলি কী কী?
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যপালকে দেওয়া চিঠিতে মূলত পাঁচটি দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবিগুলি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সপ্তম বেতন কমিশন গঠন: কেন্দ্রীয় হারে বেতনের দাবি তো দীর্ঘদিনের, তবে এবার রাজ্যের কর্মীরা চাইছেন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠন করা হোক। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা যাতে তাঁদের ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য অবিলম্বে এই কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
- ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অসম্পূর্ণ কাজ: শুধুমাত্র নতুন কমিশন নয়, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের যে দ্বিতীয় অংশটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, তা অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিও জোরালো হয়েছে এই চিঠিতে।
- বকেয়া ডিএ ও শূন্যপদ পূরণ: বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। চিঠিতে বকেয়া ডিএ মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে খালি পড়ে থাকা শূন্য পদগুলিতে দ্রুত এবং স্বচ্ছ নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও হুঁশিয়ারি
কেবলমাত্র চিঠি দেওয়াই নয়, সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা নিছক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের গলায় শোনা গেছে হুঁশিয়ারির সুর। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কর্মীদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।
সংগঠনের বার্তা পরিষ্কার—যদি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া যায়, তবে চলতি মাসের শেষের দিকেই তাঁরা বড়সড় বিক্ষোভ সমাবেশের পথে হাঁটবেন। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়ে তাঁরা মূলত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন যাতে দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলির একটি সম্মানজনক ও সময়োপযোগী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে।
এই চিঠি এবং রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে ভোটের আগে কর্মীদের এই সংগঠিত পদক্ষেপ যে রাজ্য সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।