WB Salary Hike: পুজোর ঠিক আগেই রাজ্যের হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মীর মুখে হাসি ফুটল। কলকাতা হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০১০ সালের ১লা এপ্রিলের পর নিযুক্ত সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতন নতুন বেতনক্রম অনুযায়ী বৃদ্ধি করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী উপকৃত হবেন।
Table of Contents
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
মঙ্গলবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ হলেও সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতনের বৈষম্য করা যাবে না। এর আগে সিঙ্গেল বেঞ্চও একই রায় দিয়েছিল। রাজ্য সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেও, তা খারিজ হয়ে যায়।
আন্দোলনের দীর্ঘ পথ
২০১১ সালে রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল যে, যেসব চুক্তিভিত্তিক কর্মী চাকরিতে ১০ বছর পূর্ণ করবেন, তাঁদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে। তবে, সেই বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছিল যে, ২০১০ সালের ১লা এপ্রিলের পর নিযুক্তরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। এরপর ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার আরও দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, ৫, ১০ এবং ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
কিন্তু ২০১০ সালের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাঁরা দাবি করেন যে, তাঁরাও ৫-১০ বছর চাকরি করেছেন, তাই নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাঁদেরও বেতন বাড়ানো হোক। এই দাবি নিয়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, রাজ্য সরকারের ২০১১ সালের শর্ত এক্ষেত্রে কার্যকরী হবে না। দীর্ঘ শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে নতুন বেতনক্রমের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়।
কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
হাইকোর্টের এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই বেতন বৃদ্ধির জন্য লড়াই করছিলেন। পুজোর আগে এই রায় আসায় তাঁদের মধ্যে খুশির হাওয়া। এই রায়ের ফলে রাজ্যের হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।