SIP Investment Strategy: মাসে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগেই ১ কোটি! জানুন মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি-র অঙ্ক
SIP Investment Strategy: কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন কে না দেখেন? কিন্তু অধিকাংশ মানুষের ধারণা, বিপুল পরিমাণ টাকা হাতে না থাকলে বুঝি বড়লোক হওয়া সম্ভব নয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বিশাল অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিকতার মাধ্যমে আপনিও পৌঁছতে পারেন ১ কোটির জাদুকরী মাইলফলকে। মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়েই তৈরি করা সম্ভব বিশাল সম্পদ।
কম্পাউন্ডিং-এর শক্তি ও ধৈর্যের খেলা
শেয়ার বাজারের উত্থান-পতন থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত ভালো রিটার্ন দিয়ে থাকে। চক্রবৃদ্ধি সুদের হার বা ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’-এর ফলে ছোট বিনিয়োগও সময়ের সাথে সাথে বহুগুণ বেড়ে যায়। ঐতিহাসিক তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, মিউচুয়াল ফান্ডগুলি দীর্ঘমেয়াদে গড়ে ১০% থেকে ১২% বা তারও বেশি বার্ষিক রিটার্ন দিয়েছে। কখনও কখনও বাজারের তেজি ভাব থাকলে এই রিটার্ন ১৫% পর্যন্তও পৌঁছতে পারে।
২৫ হাজার টাকার এসআইপি-র হিসেব নিকেশ
ধরে নেওয়া যাক, আপনি প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আপনার লক্ষ্য ১ কোটি টাকা জমানো। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে আপনি কত শতাংশ হারে রিটার্ন পাচ্ছেন তার ওপর। আসুন দেখে নেওয়া যাক ১০%, ১২% এবং ১৫% রিটার্নের ভিত্তিতে হিসেবটা ঠিক কেমন দাঁড়ায়।
১০ শতাংশ রিটার্ন:
যদি আপনি বছরে গড়ে ১০ শতাংশ হারে রিটার্ন পান, তবে ২৫,০০০ টাকার মাসিক এসআইপি-র মাধ্যমে ১ কোটির লক্ষ্যে পৌঁছতে আপনার সময় লাগবে ১৫ বছর।
- মোট বিনিয়োগ: ৪৫,০০,০০০ টাকা
- লাভ বা রিটার্ন: ৫৯,৪৮,১০৬ টাকা
- মোট ভ্যালু: ১,০৪,৪৮,১০৬ টাকা
১২ শতাংশ রিটার্ন:
রিটার্নের হার যদি বেড়ে ১২ শতাংশ হয়, তবে আপনার সময় লাগবে প্রায় ১৩.৫ বছর।
- মোট বিনিয়োগ: ৪০,৫০,০০০ টাকা
- লাভ বা রিটার্ন: ৬০,৮১,৮০০ টাকা
- মোট ভ্যালু: ১,০১,৩১,৮০০ টাকা
১৫ শতাংশ রিটার্ন:
বাজার ভালো থাকলে এবং ১৫ শতাংশ হারে রিটার্ন পেলে, মাত্র ১২ বছরেই আপনি কোটিপতি হতে পারেন।
- মোট বিনিয়োগ: ৩৬,০০,০০০ টাকা
- লাভ বা রিটার্ন: ৬৪,৮৯,৬১৫ টাকা
- মোট ভ্যালু: ১,০০,৮৯,৬১৫ টাকা
এক নজরে বিনিয়োগের চিত্র
সহজভাবে বোঝার জন্য নিচের তালিকাটি দেখুন:
| রিটার্ন হার (বার্ষিক) | সময়সীমা (বছর) | মোট বিনিয়োগ (টাকা) | সম্ভাব্য রিটার্ন (টাকা) | মোট ভ্যালু (টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ১০% | ১৫ | ৪৫,০০,০০০ | ৫৯,৪৮,১০৬ | ১,০৪,৪৮,১০৬ |
| ১২% | ১৩.৫ | ৪০,৫০,০০০ | ৬০,৮১,৮০০ | ১,০১,৩১,৮০০ |
| ১৫% | ১২ | ৩৬,০০,০০০ | ৬৪,৮৯,৬১৫ | ১,০০,৮৯,৬১৫ |
ঝুঁকি এবং সতর্কতা
উপরের হিসেব থেকে স্পষ্ট যে, রিটার্নের হার বাড়লে কম সময়ে এবং কম বিনিয়োগেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির সাপেক্ষ। অতীতের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই বিনিয়োগ শুরু করার আগে সমস্ত ঝুঁকি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে একজন দক্ষ আর্থিক উপদেষ্টার বা ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ নিয়ে আপনার লক্ষ্য এবং সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
ডিসক্লেইমার: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি কোনোভাবেই আর্থিক পরামর্শ নয়। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই স্কিম সম্পর্কিত নথি ভালো করে পড়ে নেবেন।