দেশ

GDP Base Year: বদলে যাচ্ছে ভারতের জিডিপি গণনার ভিত্তি বর্ষ, অর্থনীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত!

GDP Base Year: ভারতীয় অর্থনীতির খোলনলচে বদলে ফেলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ভারত সরকার দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) গণনার পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, জিডিপি গণনার জন্য ব্যবহৃত ‘বেস ইয়ার’ বা ভিত্তি বর্ষ ২০১১-১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২-২৩ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং তাঁর মন্ত্রক এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন, যা আগামী বছরের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত কেবল পরিসংখ্যানের বদল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

কেন হঠাৎ এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত?

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অর্থনৈতিক ডেটা বা তথ্যের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ভারতের ডেটা স্বচ্ছতাকে ‘সি’ গ্রেড দিয়েছিল, যা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য মোটেও সম্মানজনক নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • আন্তর্জাতিক চাপ ও স্বচ্ছতা: আইএমএফ-এর উদ্বেগের পর সরকার ডেটা স্বচ্ছতায় জোর দিচ্ছে। পুরনো ভিত্তি বর্ষের কারণে বর্তমান অর্থনীতির সঠিক ছবি ফুটে উঠছিল না।
  • অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন: ২০১১ সালের ভারত আর আজকের ভারতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। গত ১০ বছরে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স এবং স্টার্টআপ কালচার ভারতীয় অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিয়েছে।
  • গিগ ইকোনমির উত্থান: জোম্যাটো (Zomato), সুইগি (Swiggy) বা উবারের মতো গিগ ইকোনমি প্ল্যাটফর্মগুলি ২০১১ সালে সেভাবে ছিলই না। পুরনো নিয়মে এদের অবদান জিডিপিতে সঠিকভাবে ধরা পড়ছিল না।

কবে থেকে চালু হবে নতুন নিয়ম?

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৬ বা ২৭ ফেব্রুয়ারি নাগাদ যখন অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের জিডিপি রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে, তখন থেকেই এই নতুন ভিত্তি বর্ষ ২০২২-২৩ কার্যকর করা হবে। এর ফলে অর্থনীতির অনেক অজানা দিক বা ‘ইনফর্মার সেক্টর’-এর অবদানও সরকারি খাতায় উঠে আসবে।

ভিত্তি বর্ষ বা ‘বেস ইয়ার’ আসলে কী?

সহজ কথায় বলতে গেলে, জিডিপি মাপার জন্য একটি নির্দিষ্ট বছরকে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়, একেই বেস ইয়ার বলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে উৎপাদন আসলে কতটা বেড়েছে।

জিডিপি ধরণবিবরণ
ননিনাল জিডিপিবর্তমান বাজার দরের ওপর ভিত্তি করে মাপা হয়। এতে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থাকে।
রিয়েল জিডিপিভিত্তি বর্ষের দামের ওপর মাপা হয়। এটিই আসল বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

নতুন নিয়মে কী কী বদল আসবে?

ভিত্তি বর্ষ পরিবর্তনের ফলে জিডিপির অঙ্কে বড়সড় রদবদল হতে পারে। এর কিছু সম্ভাব্য প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. সেক্টরাল ওয়েটেজ পরিবর্তন: পরিষেবা খাত, ডিজিটাল কমার্স এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির গুরুত্ব জিডিপি গণনায় বাড়বে। অন্যদিকে, কিছু সনাতন বা পুরনো শিল্পের গুরুত্ব কমতে পারে।
  2. সঠিক ডেটা সোর্স: এখন জিএসটি (GST) এবং ডিজিটাল লেনদেনের কারণে সরকারের হাতে অনেক বেশি পাকা খবর বা ডেটা রয়েছে। ফলে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আর জিডিপি কষতে হবে না।
  3. পুরনো তথ্যে প্রভাব: অতীতে দেখা গেছে, ভিত্তি বর্ষ বদলালে পূর্ববর্তী বছরগুলোর জিডিপি গ্রোথ রেটে পরিবর্তন আসে। ২০১৫ সালে যখন শেষবার এটি বদলানো হয়েছিল, তখন ইউপিএ সরকারের আমলের জিডিপি রেট বেড়ে গিয়েছিল। এবারও তেমন কিছু ঘটে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। করোনা মহামারী, নোটবন্দি এবং জিএসটি চালুর পর ভারতীয় অর্থনীতি যে নতুন রূপ নিয়েছে, তা পুরনো চশমায় দেখা সম্ভব ছিল না। ২০২২-২৩ সালকে ভিত্তি বর্ষ হিসেবে বেছে নেওয়া অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত, কারণ এটি আধুনিক ভারতের খরচ এবং উৎপাদনের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম।

ঘোষণা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগ বা অর্থনীতির কোনো বড় সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button