SIP vs Lumpsum: ৫০০০ টাকার SIP নাকি লাম্পসাম? ৩০ বছরে ২ কোটি বনাম ৭ কোটির লাভ! রইল বিনিয়োগের আসল সত্যি
SIP vs Lumpsum: বিনিয়োগের দুনিয়ায় পা রাখলেই সাধারণ মানুষের মনে সবথেকে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খায়, তা হলো—বিনিয়োগের পদ্ধতি কী হবে? প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমানো (SIP), নাকি একবারে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা (Lumpsum)? সম্প্রতি বিখ্যাত ফিনান্সিয়াল ইনফ্লুয়েন্সার অঙ্কুর ওয়ারিকু তাঁর একটি ভিডিওতে এই ৫০০০ টাকার বিনিয়োগের অংক কষে দেখিয়েছেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই দুই পদ্ধতির রিটার্নে আকাশ-পাতাল তফাত হতে পারে।
মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে এই দুই পদ্ধতির আসল পার্থক্য এবং ঝুঁকির জায়গাটি বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চলুন দেখে নেওয়া যাক, দীর্ঘ ৩০ বছরে আপনার ৫০০০ টাকার বিনিয়োগ আপনাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে।
বিনিয়োগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ভিডিওতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সাথে সাথে SIP এবং Lumpsum-এর রিটার্নের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কম্পাউন্ডিং-এর প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা নিচের ছকটি দেখলেই বোঝা যাবে।
| সময়কাল (Time Period) | SIP ভ্যালু (আনুমানিক) | Lumpsum ভ্যালু (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| ১ বছর পর | ₹৪৪,৪০০ | ₹৭,৮০০ |
| ১০ বছর পর | পার্থক্য স্পষ্ট হতে শুরু করে | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
| ৩০ বছর পর | প্রায় ২ কোটি ২ লক্ষ টাকা | প্রায় ৭ কোটি ৪ লক্ষ টাকা |
উপরের পরিসংখ্যান দেখলে যে কারোরই চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ৩০ বছর পর যেখানে SIP-এর মাধ্যমে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ কোটি, সেখানে Lumpsum বা এককালীন বিনিয়োগে সেই অঙ্কটা পৌঁছে যাচ্ছে ৭ কোটির ঘরে। তাহলে কি এককালীন বিনিয়োগই শ্রেষ্ঠ? এখানেই রয়েছে আসল রহস্য।
আসল ঝুঁকি বা ‘দ্য ক্যাচ’
খালি চোখে ৭ কোটি টাকার রিটার্ন দেখে Lumpsum-কে সেরা মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সব সময় এত সহজ হয় না। অঙ্কুর ওয়ারিকু তাঁর বিশ্লেষণে এর পেছনের মূল ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো মার্কেট টাইমিং (Market Timing)।
- বাজারের অনিশ্চয়তা: Lumpsum বিনিয়োগে আপনি কোন ‘প্রাইস’ বা মূল্যে বাজারে প্রবেশ করছেন, সেটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এমন সময়ে টাকা লাগান যখন মার্কেট একদম শিখরে (High) আছে, তাহলে আপনার রিটার্ন খুব একটা ভালো হবে না।
- সঠিক সময় চেনার দায়: অন্যদিকে, যদি মার্কেট পড়ার সময় (Low) আপনি টাকা ঢালতে পারেন, তবেই একমাত্র ওই বিশাল রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মুশকিল হলো, সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে বোঝা প্রায় অসম্ভব যে মার্কেট এখন ‘হাই’ নাকি ‘লো’।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: কোনটি আপনার জন্য সঠিক?
বিশ্লেষণ শেষে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো সুরক্ষা এবং মানসিক শান্তি। মার্কেট টাইমিং-এর ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে SIP (Systematic Investment Plan) হলো সবথেকে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের পছন্দ।
SIP-তে আপনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে বিনিয়োগ করেন, ফলে মার্কেট উপরে থাক বা নিচে—গড়পড়তা বা ‘রুপি কস্ট এভারেজিং’-এর সুবিধা আপনি পান। তাই ৭ কোটির লোভে না পড়ে, দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত এবং ঝুঁকিমুক্ত সম্পদ গড়তে SIP পদ্ধতিই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মত দেওয়া হয়েছে।
দাবিত্যাগ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ নয়। মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই আপনার আর্থিক উপদেষ্টার সাথে পরামর্শ করুন এবং সমস্ত নথিপত্র ভালো করে পড়ে নিন।