All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
ইনকাম ট্যাক্স

Income Tax Refund: ইনকাম ট্যাক্স রিফান্ড কি এখনও পাননি? জানুন কেন দেরি হচ্ছে এবং আপনার করণীয়

Income Tax Refund: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর মধ্যে বিলম্বিত বা বিলেটেড ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, দেশের লক্ষ লক্ষ করদাতা এখনও তাদের রিটার্ন প্রসেসিং এবং রিফান্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আয়কর দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের জন্য প্রায় ৮.৮০ কোটি রিটার্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮.৬৬ কোটি রিটার্ন ভেরিফাই করা হয়েছে এবং ৮.০২ কোটি রিটার্ন প্রসেস করা হয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এখনও প্রায় ৬৩ লক্ষ করদাতার রিটার্ন প্রসেসিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল সংখ্যক রিটার্ন কেন আটকে আছে? কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং দপ্তরের কঠোর নজরদারি এবং নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়ার অংশ।

কেন আটকে আছে আপনার রিফান্ড?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছর রিফান্ড বা রিটার্ন প্রসেসিংয়ে দেরির মূল কারণ হলো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যের নিখুঁত যাচাইকরণ। ধ্রুব অ্যাডভাইজারস-এর পার্টনার সন্দীপ ভল্লার মতে, আয়কর দপ্তর এখন ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং কমপ্লায়েন্স চেকের ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে।

  • তথ্যের অমিল: আয়কর দপ্তরের কাছে এখন করদাতার সমস্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য (যেমন- ব্যাঙ্কের সুদ, মিউচুয়াল ফান্ড, টিডিএস, ফর্ম ২৬এএস এবং এআইএস) রয়েছে। রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এই ডেটার সামান্য অমিল থাকলেই সিস্টেম সেই রিটার্নটিকে ‘ফ্ল্যাগ’ বা চিহ্নিত করছে এবং প্রসেসিং আটকে দিচ্ছে।
  • ‘নাজ’ (Nudge) ক্যাম্পেন: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT) গত ডিসেম্বর মাস থেকে একটি বিশেষ সতর্কীকরণ বা ‘নাজ’ ক্যাম্পেন শুরু করেছে। যাদের রিটার্নে তথ্যের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে, তাদের ইমেল বা এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। করদাতা সেই ভুল স্বীকার করে বা সংশোধন না করা পর্যন্ত রিফান্ড প্রসেস করা হচ্ছে না।

আইনি সময়সীমা এবং দপ্তরের নিয়ম

অনেকের মনেই ভীতি কাজ করছে যে ৩১ ডিসেম্বরের পরেও রিটার্ন পেন্ডিং থাকা মানেই হয়তো কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করছেন যে, এতে ভয়ের কিছু নেই। আয়কর আইন অনুযায়ী, কোনও অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর থেকে সেন্ট্রলাইজড প্রসেসিং সেন্টারের (CPC) হাতে রিটার্ন প্রসেস করার জন্য ৯ মাস সময় থাকে। অর্থাৎ, ২০২৫-২৬ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের রিটার্ন প্রসেস করার জন্য দপ্তরের কাছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত আইনি সময় রয়েছে। যেহেতু ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশের বেশি ভেরিফায়েড রিটার্ন প্রসেস করা হয়ে গেছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতি আইনি সীমার মধ্যেই রয়েছে।

দেরির আরও কিছু কারণ

ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ সিএ ডঃ সুরেশ সুরানা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন যা এই বছর প্রসেসিংয়ে ধীরগতির সৃষ্টি করেছে:

  • দেরিতে ফর্ম প্রকাশ: এই বছর আইটিআর ফর্ম এবং ইউটিলিটিগুলি অন্যান্য বছরের তুলনায় দেরিতে (জুন থেকে আগস্টের মধ্যে) রিলিজ করা হয়েছিল। এর ফলে ফাইলিং এবং প্রসেসিং—উভয় ক্ষেত্রেই সময় পিছিয়ে গেছে।
  • বিদেশি আয়ের ওপর নজরদারি: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তথ্যের ভিত্তিতে যাদের বিদেশি আয়ের বা সম্পত্তির হদিস পাওয়া গেছে, তাদের বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এই ধরনের হাই-ভ্যালু কেসগুলি ম্যানুয়াল বা বিশেষ স্ক্রুটিনির মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

দেরিতে রিফান্ড পেলে কি সুদ মিলবে?

হ্যাঁ, আয়কর আইনের ২৪৪এ ধারা অনুযায়ী দেরিতে রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সুদ পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এর জন্য কিছু শর্ত প্রযোজ্য:

  • রিফান্ডের পরিমাণ ১০০ টাকা বা মোট প্রদেয় করের ১০ শতাংশের বেশি হতে হবে।
  • সুদের হার মাসে ০.৫ শতাংশ (সরল সুদ)।
  • যারা সময়মতো রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তারা ১ এপ্রিল থেকে সুদ পাবেন। কিন্তু যারা বিলেটেড বা দেরিতে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তারা যেদিন রিটার্ন ফাইল করেছেন, সেদিন থেকে সুদের হিসাব হবে।

এখন করদাতাদের কী করণীয়?

যদি আপনার রিফান্ড এখনও না এসে থাকে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:
১. নিয়মিত আয়কর পোর্টালে লগইন করে আপনার স্ট্যাটাস চেক করুন।
২. আপনার ইমেল এবং এসএমএস চেক করুন, দপ্তরের কোনও নোটিশ এসেছে কি না দেখুন।
৩. AIS এবং Form 26AS-এর সাথে আপনার জমা দেওয়া তথ্যের মিল আছে কি না যাচাই করুন।
৪. যদি কোনও ভুল থাকে, তবে দ্রুত আপডেটেড বা রিভাইজড রিটার্ন জমা দিন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রিফান্ড আটকে থাকার কারণ হলো তথ্যের যাচাইকরণ, রিজেকশন নয়। ধৈর্য ধরুন এবং সঠিক তথ্যের জোগান দিন।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button