DA Case Update: সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলা নিয়ে বড় আপডেট, রায়, বকেয়া মেটানো ও আদালত অবমাননা
DA Case Update: রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ (Dearness Allowance) মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে রায় সংরক্ষিত বা ‘রিজার্ভ’ রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর এবং আদালতের নির্দেশ মেনে লিখিত সাবমিশন বা বক্তব্য জমা দেওয়ার পর, সাধারণত কোনো পক্ষেরই আর নতুন করে কিছু করার থাকে না। এই মুহূর্তে হাজার হাজার সরকারি কর্মী তাকিয়ে আছেন দেশের শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলার বর্তমান প্রেক্ষাপট
বর্তমানে বিচারপতিদের বিবেচনাধীন রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি। আইনি মহলের একাংশের মতে, মামলাটি যখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে, তখন রেসপনডেন্ট বা প্রতিবাদী পক্ষের দ্বারা বিষয়টি বারবার উল্লেখ বা ‘মেনশন’ করা হলে তা কৌশলগতভাবে পিটিশনার অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কিছুটা সুবিধাও করে দিতে পারে। তবে এটি একান্তই আইনি প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম বিষয়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডিএ মামলার শুরু থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাত্রাপথে কোনো রায়ের ওপর কখনও কোনো স্থগিতাদেশ বা ‘স্টে অর্ডার’ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, নিম্ন আদালতের রায়গুলি এখনও বহাল রয়েছে। স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই এই মামলায় দীর্ঘ ও বিস্তারিত শুনানি হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে আদালত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যদি মামলাটি গ্রহণ করার মতো না হতো, তবে দীর্ঘ শুনানির আগেই তা খারিজ হয়ে যেতে পারত।
পঞ্চম বেতন কমিশন ও আর্থিক যুক্তির বিচার
সুপ্রিম কোর্টের গত ১৬ মে-র অর্ডারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনাল এবং কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র অধিকারের বিষয়টি বিচার করা হয়েছে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আর্থিক অনটনের যে যুক্তি খাড়া করা হয়েছিল, তা ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট—উভয় জায়গাতেই খারিজ হয়ে গিয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারে উল্লেখ রয়েছে। শীর্ষ আদালত কর্মীদের মৌলিক অধিকার সহ সমস্ত দিক বিবেচনার লিখিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং মোট তিনবার সকল পক্ষের লিখিত সাবমিশন গ্রহণ করেছে।
বকেয়া ডিএ এবং আদালত অবমাননার প্রসঙ্গ
কর্মীদের বকেয়া ডিএ প্রাপ্তির বিষয়টি এই মামলার অন্যতম প্রধান অংশ। কলকাতা হাইকোর্টের শেষ দুটি রায় অনুযায়ী, সমস্ত সরকারি কর্মীর বকেয়া অর্থের অন্তত ২৫ শতাংশ ছয় সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই লিখিত নির্দেশ পালন করেনি। এই নির্দেশ অমান্য করার কারণে তিনজন রেসপনডেন্ট আদালত অবমাননা বা ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’-এর পিটিশন দাখিল করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট এই অবমাননার মামলাটিকে মূল এসএলপি (SLP)-র সাথে যুক্ত করেছে। এর ফলে মামলার রায়ে সকল সম্ভাবনার পথই খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও পরামর্শ
বর্তমানে সিনিয়র আইনজীবীদের পরামর্শ হলো ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। যেহেতু শুনানি শেষ এবং সমস্ত নথিপত্র জমা পড়েছে, তাই এখন আদালতের রায়ের ওপরেই সবকিছু নির্ভর করছে। কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আদালত কী রায় দেয়, এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কী নির্দেশ আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।