SIP Calculation: চাকরি করে ২৫ লাখ টাকা জমানোর সহজ উপায়! মাসে কত বিনিয়োগ করলে স্বপ্ন পূরণ? সহজ হিসাবটি দেখে নিন
SIP Calculation: চাকরিজীবন শুরু করার পর অধিকাংশ মানুষেরই স্বপ্ন থাকে একটি বড় অঙ্কের ব্যাংক ব্যালেন্স তৈরি করার। মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের কাছে ২৫ লাখ টাকার একটি তহবিল বা ‘কর্পাস’ তৈরি করা একটি বড় আর্থিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। আপাতদৃষ্টিতে এই লক্ষ্যটি বেশ কঠিন মনে হলেও, সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের সাথে বিনিয়োগ করলে এটি অর্জন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কেবল ব্যাংকে টাকা জমিয়ে এই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন, এর জন্য প্রয়োজন স্মার্ট বিনিয়োগ।
মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে কীভাবে এই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখা নিচে আলোচনা করা হলো।
চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদু এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
সম্পদ তৈরির মূল মন্ত্র হলো কেবল বেশি আয় করা নয়, বরং কষ্টার্জিত অর্থকে সঠিক জায়গায় কাজে লাগানো। বেতনভুক কর্মচারীদের জন্য সময় বা ‘টেনর’ একটি বড় হাতিয়ার। আপনি যত দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করবেন, চক্রবৃদ্ধি বা ‘কম্পাউন্ডিং’-এর সুবিধা তত বেশি পাবেন। মুদ্রাস্ফীতিকে হারিয়ে টাকার প্রকৃত মান বাড়াতে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদী এসআইপি বর্তমানে অন্যতম সেরা উপায়, যেখানে বার্ষিক গড় ১০-১২ শতাংশ রিটার্ন আশা করা যায়।
আপনার হাতে কত সময় আছে, তার ওপর ভিত্তি করে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে। সময় যত কম, মাসিক কিস্তির চাপ তত বেশি। অন্যদিকে, সময় বেশি হলে অল্প টাকা জমিয়েও বড় মূলধন তৈরি সম্ভব।
২৫ লাখ টাকা জমানোর গাণিতিক হিসাব
১২ শতাংশ আনুমানিক বার্ষিক রিটার্ন ধরে, ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমায় ২৫ লাখ টাকা জমাতে আপনাকে মাসে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে, তার একটি হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
| সময়সীমা (Tenure) | মাসিক এসআইপি (টাকা) | মোট আসল জমা | আনুমানিক লাভ | মোট ম্যাচুরিটি ভ্যালু |
|---|---|---|---|---|
| ৫ বছর | ৩১,০০০ | ১৮.৬ লাখ | ৬.৫৪ লাখ | ২৫.১৪ লাখ |
| ১০ বছর | ১১,৫০০ | ১৩.৮ লাখ | ১১.৯৬ লাখ | ২৫.৭৬ লাখ |
| ১৫ বছর | ৫,৫০০ | ৯.৯ লাখ | ১৬.২৮ লাখ | ২৬.১৮ লাখ |
উপরের ছক থেকে স্পষ্ট যে, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণে বিশাল তফাত তৈরি হয়। যারা ১৫ বছর আগে শুরু করবেন, তারা মাসে মাত্র ৫,৫০০ টাকা জমিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু মাত্র ৫ বছর হাতে থাকলে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৩১,০০০ টাকায়, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
বেতনভুক কর্মচারীদের জন্য কৌশল
বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট অংশ বিনিয়োগের জন্য সরিয়ে রাখা উচিত। যারা নতুন চাকরি শুরু করছেন, তারা মাসে ৫,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে বর্তমানে ২০২৬ সাল নাগাদ ১০-১৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে মাসে ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা একটি বাস্তবসম্মত এবং আদর্শ পদক্ষেপ।
টিপস: প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট বা বোনাসের টাকা দিয়ে এসআইপি-র পরিমাণ সামান্য বাড়ান। শুরুতে অল্প মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই ছোট বৃদ্ধি বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। ধারাবাহিকতাই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।
ডিসক্লেমার: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আর্থিক পরামর্শ নয়। মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজার ঝুঁকির সাপেক্ষে। বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত আর্থিক উপদেষ্টার সাথে পরামর্শ করুন এবং স্কিম সংক্রান্ত নথিপত্র ভালো করে পড়ে নিন।