SIR Admit Card: সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়! মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রাহ্য হবে SIR এর বয়সের প্রমাণ হিসেবে
SIR Admit Card: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) কর্মসূচি নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মান্যতা দিতেই হবে। এই রায় রাজ্যের লাখো ভোটারের জন্য স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।
বয়সের প্রমাণে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের গুরুত্ব
এতদিন পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করতে অস্বীকার করছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল, দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ড সব সময় বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা যায় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় এই যুক্তি ধোপে টেকেনি।
আদালতের শুনানিতে উঠে আসে যে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বহু পুরনো সার্টিফিকেটে বা জন্ম প্রমাণপত্রে অনেক সময় জন্মতারিখ বা ‘ডেট অফ বার্থ’ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ থাকে না। কিন্তু মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে সেই তারিখ স্পষ্টভাবে লেখা থাকে। বেঞ্চে উপস্থিত বাঙালি বিচারপতিরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং সহমত পোষণ করেন। এরপরই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, এখন থেকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কেউ যদি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেন, তবে কমিশনকে তা বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তথ্যের অসঙ্গতি ও তালিকা প্রকাশ নিয়ে কড়া নির্দেশ
শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড নয়, সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে:
- বিপুল গরমিল: রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে তথ্যের অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ পাওয়া গিয়েছে।
- প্রকাশের সময়সীমা: আগামী তিন দিনের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক নামের তালিকা কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে।
- কোথায় দেখা যাবে: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই তালিকা প্রতিটি ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত অফিস এবং পুরসভার ওয়ার্ড অফিসে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির পদ্ধতি ও প্রতিনিধি নিয়োগের নিয়ম
যাঁদের নামে তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, তালিকা প্রকাশের ঠিক ১০ দিন পর থেকে তাঁদের নোটিস পাঠিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হবে। এই শুনানির প্রক্রিয়াটি কেমন হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে আদালত।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, শুনানির সময় যেন বুথ লেভেল এজেন্ট বা BLA-দের উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে এতে রাজনৈতিক বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। দুই পক্ষের সওয়াল শুনে আদালত একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে:
১. শুনানিতে ডাক পাওয়া ব্যক্তি যদি মনে করেন তাঁর সহায়তার প্রয়োজন, তবে তিনি সঙ্গে একজনকে নিয়ে যেতে পারবেন।
২. এই প্রতিনিধি পরিবারের সদস্য, আইনজীবী অথবা রাজনৈতিক দলের বিএলএ (BLA)—যে কেউ হতে পারেন।
৩. তবে শর্ত হলো, ওই প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে একটি লিখিত সম্মতিপত্র বা ‘অথরাইজেশন লেটার’ দিতে হবে।
এই রায়ের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।