Banglar Bari: ঢুকছে বাংলার বাড়ির টাকা! তালিকায় আপনার নাম আছে তো? জেনে নিন নিশ্চিত হওয়ার ৩টি উপায়
Banglar Bari Scheme: রাজ্যজুড়ে বহু সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। নিজস্ব পাকা বাড়ির স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ বা আবাস যোজনার অধীনে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ সাহায্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী ২৮শে জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলি জেলার সিঙ্গুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করবেন এবং উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান করবেন।
তবে সবার মনেই এখন একটাই প্রশ্ন—এই দফায় কারা টাকা পাচ্ছেন এবং কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে আপনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে? এই প্রতিবেদনে সেই সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
কারা এই পর্যায়ে টাকা পাচ্ছেন?
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দফায় মোট ২০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। মূলত দুটি প্রধান উৎস থেকে এই উপভোক্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের অপেক্ষমান তালিকা রয়েছে, অন্যদিকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানানো আবেদনের ভিত্তিতেও বহু মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন।
নিচে উপভোক্তাদের বিন্যাস একটি তালিকার মাধ্যমে দেওয়া হলো:
| উপভোক্তার ধরণ | সংখ্যা (আনুমানিক) |
|---|---|
| পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট (PWL) | ১৬,০০,০০০ |
| সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন (যাচাইকৃত) | ৪,০০,০০০ |
| মোট উপভোক্তা | ২০,০০,০০০ |
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু কঠোর যাচাইকরণের মাধ্যমে মাত্র ৪ লক্ষ আবেদনকারীকে এই দফার জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি ১১ লক্ষ আবেদনকারীর ভেরিফিকেশন বা অন্যান্য প্রক্রিয়া বাকি থাকায় তাঁরা এখনই টাকা পাচ্ছেন না।
আপনি টাকা পাবেন কিনা বুঝবেন কীভাবে?
অনেকেই অনলাইনে তালিকা খোঁজার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। আপনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় আছে কিনা, তা বোঝার জন্য নিচের ৩টি সংকেত মিলিয়ে দেখুন:
১. আধার ভেরিফিকেশন ও এসএমএস
সম্প্রতি আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আধার ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো এসএমএস এসেছিল কি? যদি এসে থাকে এবং আপনি লিঙ্কে ক্লিক করে ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে থাকেন, তবে আপনি এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। এটি উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের অন্যতম প্রাথমিক ধাপ।
২. ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ টাকা ক্রেডিট
টাকা পাওয়ার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আপনার প্রদান করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরীক্ষামূলকভাবে ১ টাকা পাঠানো হয়েছিল কিনা, তা পাসবুক বা স্টেটমেন্ট চেক করে দেখুন। যদি এই ১ টাকা ঢুকে থাকে, তবে ধরে নেওয়া যায় আপনার অ্যাকাউন্টটি সরকারের সিস্টেমে সফলভাবে ভেরিফায়েড হয়েছে।
৩. অফলাইন ফাইনাল লিস্ট চেক (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
অনলাইনে বর্তমানে যে তালিকা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত খসড়া বা পুরনো পিডব্লিউএল (PWL) তালিকা। ২৮শে জানুয়ারি যে ২০ লক্ষ মানুষকে টাকা দেওয়া হবে, তাঁদের ‘ফাইনাল লিস্ট’ বা চূড়ান্ত তালিকা অনলাইনে এখনো উপলব্ধ নয়। এই তালিকাটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বা বিডিও (BDO) অফিসে অফলাইন মোডে টাঙানো হয়েছে বা মিটিংয়ে পেশ করা হয়েছে। ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে আপনার স্থানীয় পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে গিয়ে এই ফিজিক্যাল বা হার্ডকপি লিস্টে নিজের নাম চেক করুন।
কারা এবার টাকা পাচ্ছেন না?
দুর্ভাগ্যবশত, আবেদন করলেই যে সবাই ২৮ তারিখে টাকা পাবেন, এমনটা নয়। বেশ কিছু ক্যাটাগরির মানুষ এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন:
- যাঁরা অতি সম্প্রতি ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে নতুন করে আবেদন জমা দিয়েছেন।
- যাঁদের বাড়ির সার্ভে বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।
- যাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ টাকা ঢোকেনি বা আধার সংক্রান্ত কোনো এসএমএস আসেনি।
তবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, যাঁরা যাচাইকরণের অভাবে বা অন্য কারণে এই লটে বাদ পড়লেন, পরবর্তী ধাপে তাঁদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ধাপে ধাপে যোগ্যরা সুবিধা পাবেন।