ASHA Workers Honorarium: বাংলার আন্দোলনের মাঝেই আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ১০০০ টাকা বেতন বাড়ালো কেরালা! বাংলার কর্মীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
ASHA Workers Honorarium: কেরালার অর্থমন্ত্রী কেএন বালাগোপাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের আশা কর্মী (ASHA Workers) এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক সম্মানী বা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন পশ্চিমবঙ্গের আশা কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেরলের এই পদক্ষেপ বাংলার কর্মীদের প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কেরালায় ভাতা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
কেরালা সরকার তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের মাসিক আয়ে বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নতুন কাঠামোটি নিম্নরূপ:
| পদের নাম | ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ (মাসিক) |
|---|---|
| আশা কর্মী (ASHA Workers) | ১,০০০ টাকা |
| অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (Anganwadi Workers) | ১,০০০ টাকা |
| অঙ্গনওয়াড়ি সহায়ক (Anganwadi Helpers) | ৫০০ টাকা |
বয়স্ক নাগরিক ও যুবকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
কেরালার বাজেটে শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধিই নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও একাধিক অভিনব প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে।
- বয়স্কদের জন্য আলাদা বাজেট: কেরালার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮.৭ শতাংশই প্রবীণ নাগরিক। তাঁদের কথা মাথায় রেখে দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো বয়স্কদের জন্য পৃথক বাজেট চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৪,৫০০ কোটি টাকা।
- কানেক্ট টু ওয়ার্ক (Connect to Work): ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে বৃত্তি পাবেন। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
- ওয়ানাড পুনর্বাসন: বাজেটে ভূমিধস বিধ্বস্ত ওয়ানাডের পুনর্বাসনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে প্রথম পর্যায়ের বাড়ি তুলে দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের আশা কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রত্যাশা
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। সম্প্রতি ন্যুনতম ১৫ হাজার টাকা ভাতা-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের আশা কর্মীরা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সললেক এবং ধর্মতলা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যদিও দিনভর আন্দোলনের পর স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হলেও বেতন বৃদ্ধির কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি মেলেনি, কেবল বকেয়া মেটানোর আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তবে আশার আলো দেখাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য। সিঙ্গুরের এক জনসভায় তিনি আশা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সবুরে মেওয়া ফলে”, এবং তাঁদের কিছুটা ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কেরালার মতো পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আগামী বাজেটে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বড় কোনো সুখবর ঘোষণা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কেরালার পথ অনুসরণ করে বাংলাতেও ভাতার অঙ্ক বাড়ে কি না।