All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
সরকারি কর্মচারী

8th Pay Commission: অষ্টম পে কমিশনে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির বড় ইঙ্গিত! ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কী আপডেট?

8th Pay Commission: প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কমিশন বা 8th Pay Commission নিয়ে সারা দেশের প্রায় ১.১২ কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মধ্যে উৎসাহের অন্ত নেই। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হলে শুধুমাত্র কর্মীদের ব্যক্তিগত আয় বাড়বে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নতুন গতির সঞ্চার হবে। ২০১৬ সাল থেকে চলে আসা সপ্তম বেতন কমিশনের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছে এই নতুন কমিশন, যা কর্মীদের মূল বেতন (Basic Pay), বিভিন্ন ভাতা (Allowances) এবং পেনশনের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেতন বৃদ্ধির হার কি এবার চমকে দেবে?

সপ্তম বেতন কমিশনের সময় কর্মীদের প্রাপ্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। অ্যামবিট ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তম কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ হওয়া সত্ত্বেও মূল বেতন বৃদ্ধির হার ছিল মোটামুটি ১৪ শতাংশের কাছাকাছি (ভাতা ব্যতীত)। এর অন্যতম কারণ ছিল কমিশন শুরুর সময় ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা মহার্ঘ ভাতা (DA) শূন্য করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অষ্টম পে কমিশনের আওতায় বেতন ও পেনশনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। যদি এই অনুমান সঠিক হয়, তবে তা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি হবে এবং এর ফলে সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১৫.৫ শতাংশ এই খাতে খরচ হতে পারে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত

নতুন বেতন কাঠামোতে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ বা বেতন বৃদ্ধির সূচক কত হবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। অ্যামবিট-এর মতে, অতীতের কমিশনগুলোর ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার ১.৮৩ থেকে ২.৪৬-এর মধ্যে কোনো একটি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বেছে নিতে পারে।

অন্যদিকে, জেনজেডসিএফও (GenZCFO)-এর প্রতিষ্ঠাতা সিএ মণীশ মিশ্রের মতে, এই রেঞ্জটি ১.৯ থেকে শুরু করে ২.৮ বা ৩.০ পর্যন্তও যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বর্তমান বেসিক পে ৫০,০০০ টাকা হয় এবং ২০২৫ সালের শেষে ডিএ ৬০ শতাংশে পৌঁছায়, তবে ন্যূনতম পক্ষেও কর্মীদের বেতন অন্তত ১৪ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃদ্ধি নির্ভর করবে সরকার কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত করছে তার ওপর।

সরকারি কোষাগারে কতটা চাপ পড়বে?

নতুন এই পে স্ট্রাকচার বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আনুমানিক ১.৮ ট্রিলিয়ন টাকার অতিরিক্ত বোঝা চাপতে পারে। ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য আয়করের যে ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থের যোগান দেবে। কেন্দ্র যদি এই পদক্ষেপ নেয়, তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে রাজ্যগুলিও তাদের কর্মীদের জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে রাজ্যগুলির জিএসডিপি-র (GSDP) অন্তত ০.৫ শতাংশ খরচ বাড়তে পারে।

কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?

সিএ মণীশ মিশ্রের মতে, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি চূড়ান্ত হতে এবং পেমেন্ট শুরু হতে কিছুটা সময় লাগলেও, বকেয়া বা এরিয়ার্স (Arrears) সম্ভবত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই গণনা করা হবে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনটিকেই নতুন কাঠামোর শুরুর তারিখ হিসেবে ধরা হতে পারে। সব মিলিয়ে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সরকারি অনুমোদনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করলেও, আসন্ন বেতন কমিশন যে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর বয়ে আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button