Bangla Shasya Bima: চাষিদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা! বাংলা শস্য বীমায় ৮০ কোটি ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী, আপনার নাম আছে?
Bangla Shasya Bima: রাজ্যের অগণিত কৃষকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে বাংলা শস্য বীমা প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের অর্থ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে রাজ্য সরকার মোট ৮০ কোটি টাকার তহবিল ছাড়ার ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যেই বহু কৃষকের মোবাইলে টাকা জমার এসএমএস (SMS) আসতে শুরু করেছে।
সিঙ্গুর থেকে বড় ঘোষণা ও টাকার পরিমাণ
সম্প্রতি সিঙ্গুরের একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ বন্টন প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। তিনি রিমোটের বোতাম টিপে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
- মোট বরাদ্দ: এই দফায় রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য মোট ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
- উপকৃত কৃষক: রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ ৩৫ হাজারেরও বেশি কৃষক এই আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
কারা পাচ্ছেন এই ক্ষতিপূরণ?
মূলত গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের খরিফ মরসুমে যে সমস্ত চাষির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, তাঁদেরকেই এই পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। খরিফ মরসুমে অসময়ে অতিবৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাঁদের ধানের ক্ষতি হয়েছিল, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ডিবিটি (DBT) বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হচ্ছে।
মোবাইলে আসছে খুশির বার্তা (SMS)
টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকদের ফোনে নির্দিষ্ট বার্তা বা এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এবারের বিমা সংস্থা এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (SBI General Insurance) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বার্তায় স্পষ্ট উল্লেখ থাকছে যে, ২০২৫ খরিফ মরসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ক্ষতির দরুন এই বিমার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা করা হলো।
স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
অনেকেই জানতে চাইছেন অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করা যাবে কিনা। এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো:
- বর্তমানে এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের পেমেন্ট স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করার কোনো সুবিধা নেই, যা আগে বাজাজ অ্যালিয়ান্সের ক্ষেত্রে উপলব্ধ ছিল।
- তাই আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস-ই হলো টাকা পাওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ।
- যাঁরা এসএমএস পেয়েছেন, তাঁরা আগামী ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবেন।
- জমির পরিমাণ ও ক্ষতির বহর অনুযায়ী একেক জন কৃষক ১,০০০ টাকা থেকে ১,২০,০০০ টাকা বা তার বেশিও পেতে পারেন।
পরবর্তী মরসুমের জন্য করণীয়
পুরানো পাওনা মেটানোর পাশাপাশি আগামী দিনের সুরক্ষার কথাও ভাবছে সরকার। বর্তমানে ২০২৬ সালের রবি মরসুমের জন্য শস্য বীমার আবেদনপত্র জমা নেওয়া চলছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে আপনিও ক্ষতিপূরণ পান, তার জন্য অবিলম্বে রবি মরসুমের ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।