SSC Recruitment: এসএসসির তালিকায় ১০০০ ‘টেইন্টেড’ নাম! এসএসসি মামলায় হাইকোর্টের বড় নির্দেশ
SSC Recruitment: কলকাতা হাইকোর্টে ফের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ঘিরে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর (11-12) শিক্ষক নিয়োগের প্রকাশিত প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট বা মেধা তালিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশিত তালিকায় এমন বহু প্রার্থীর নাম রয়েছে যারা আদৌ ওই পদের জন্য যোগ্য নন। এই ‘অযোগ্য’ বা ‘টেইন্টেড’ (Tainted) প্রার্থীদের ভিড়ে আসল যোগ্য এবং বঞ্চিত প্রার্থীরা সুযোগই পাচ্ছেন না বলে দাবি মামলাকারীদের।
মেরিট লিস্টে ১০০০ ‘অযোগ্য’ প্রার্থী?
বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে মামলাকারীরা দাবি করেছেন, সদ্য প্রকাশিত একাদশ-দ্বাদশের প্রভিশনাল মেরিট লিস্টে প্রায় ১০০০-এর বেশি অযোগ্য প্রার্থীর নাম ঢুকে পড়েছে। তাঁদের যুক্তি, এই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থীর নাম তালিকায় থাকার ফলে মেধা তালিকায় থাকা যোগ্য প্রার্থীরা ভেরিফিকেশন বা ইন্টারভিউয়ের ডাক পাননি। বিষয়টি আদালতের নজরে এনে মামলাকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পরবর্তী শুনানিতে এই ১০০০ জন তথাকথিত ‘টেইন্টেড’ প্রার্থীর সম্পূর্ণ তালিকা পেশ করতে প্রস্তুত।
কমিশনের অবস্থান ও আদালতের নির্দেশ
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের (SSC) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোনো অযোগ্য প্রার্থী ভুলবশত বা নজর এড়িয়ে তালিকায় স্থান পেয়েও যান (‘slip through the net’), তবে তাঁদের নিয়োগ যেকোনো মুহূর্তে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে বাতিল (revoke) করা হবে। কমিশন ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সচেতন এবং পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে আদালতের মূল প্রশ্ন বা পর্যবেক্ষণ অন্যত্র। বিচারপতি অমৃতা সিনহা কমিশনকে প্রশ্ন করেন, এই অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার পর যে শূন্যস্থান তৈরি হবে, সেখানে কি বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা হবে? অর্থাৎ, ‘টেইন্টেড’ প্রার্থীদের সরিয়ে জেনুইন প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করতে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা বা এফিডেভিট (Affidavit) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটা নিয়ে জট
এদিনের শুনানিতে শারীরিক প্রতিবন্ধী (PH) প্রার্থীদের সংরক্ষণ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১০০ পয়েন্ট রোস্টার এবং ৪ শতাংশ সংরক্ষণ নীতি সঠিকভাবে মানা হয়নি। বিশেষত অর্থোপেডিকালি হ্যান্ডিক্যাপড প্রার্থীদের জেনারেল ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের যুক্তি, তাঁরা রাজ্যের নিয়ম মেনে কেবল এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে এবং এই শূন্যপদগুলি পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ক্যারি ফরওয়ার্ড’ (Carry Forward) করা হবে। এই বিষয়টি নিয়েও কমিশনকে বিশদ হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে। কমিশনের হলফনামায় কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।