School Holiday: মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন স্কুল ছুটি? প্রাথমিক পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বড় আপডেট জানুন
School Holiday: রাজ্যে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা দপ্তরের প্রস্তুতি তুঙ্গে। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। এই আবহে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠন নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন (WBBPE)।
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পর্ষদের সচিবের স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (DPSC)-এর চেয়ারম্যানদের বিশেষ কিছু নিয়মাবলী পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলিতে যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয় এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকার মূল বিষয়বস্তু
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলিতে রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে না। অর্থাৎ, ঢালাও ছুটির কোনো ঘোষণা করা হয়নি। পঠনপাঠন স্থগিত বা সাসপেন্ড (Suspended) রাখার নির্দেশটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত রাখা এবং স্থান সংকুলান নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার লক্ষ্য।
কোন কোন ক্ষেত্রে ক্লাস বন্ধ থাকবে?
পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্লাস সাসপেন্ড রাখার নিয়মটি দুটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে:
- সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়: যে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে একই চত্বরে অবস্থিত (Attached) বা বিদ্যালয় ভবনটি একে অপরের সাথে সংযুক্ত, সেইসব প্রাথমিক স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলিতে পঠনপাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যেহেতু একই চত্বরে পরীক্ষা চলবে, তাই ছোট পড়ুয়াদের ক্লাসের শব্দ বা যাতায়াত যাতে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটায়, তাই এই সিদ্ধান্ত।
- হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস: বর্তমানে রাজ্যের বহু হাই স্কুলেই পঞ্চম শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যে সমস্ত হাই স্কুল বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ভেনু বা পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, সেখানে পরীক্ষার দিনগুলিতে পঞ্চম শ্রেণীর (Class V) ক্লাস হবে না।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রভাব
এই নির্দেশিকা জারির ফলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলি তাদের অধীনস্থ স্কুলগুলিকে এই বার্তা পৌঁছে দেবে। এর ফলে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের বিভ্রান্তি দূর হবে। অনেক সময় পরীক্ষার সিট বা ভেনু নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ধোঁয়াশা থাকে যে স্কুল খোলা থাকবে কি না। পর্ষদের এই সুস্পষ্ট বার্তা নিশ্চিত করল যে, পরীক্ষাকেন্দ্রের সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এমন বা স্বতন্ত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে স্বাভাবিক নিয়মেই ক্লাস চলবে, যদি না স্থানীয় প্রশাসনের অন্য কোনো নির্দেশ থাকে।
পর্ষদের এই পদক্ষেপে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। পরীক্ষার দিনগুলিতে স্কুল চত্বর শান্ত ও কোলাহলমুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন, যা এই নির্দেশিকার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।