Paperless Aadhaar: আধার কার্ডের দিন শেষ! জালিয়াতি রুখতে এবার ব্যবহার করুন ‘পেপারলেস আধার’, জানুন খুঁটিনাটি
Paperless Aadhaar: বর্তমানে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। সিম কার্ড তোলা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই আধারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সর্বত্র নিজের আধার নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য শেয়ার করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে। এই জালিয়াতি বা তথ্যের অপব্যবহার রুখতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) নিয়ে এসেছে এক দুর্দান্ত সুবিধা, যা ‘পেপারলেস আধার’ বা ‘অফলাইন ই-কেওয়াইসি’ (Offline e-KYC) নামে পরিচিত।
পেপারলেস আধার আসলে কী?
সহজ কথায়, এটি একটি ডিজিটাল ডকুমেন্ট যা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং UIDAI দ্বারা ডিজিটালি স্বাক্ষরিত। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পরিচয় যাচাই করার জন্য আপনাকে আর আপনার ১২ সংখ্যার আধার নম্বর বা আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) কাউকে দিতে হবে না। এটি একটি এক্সএমএল (XML) ফাইল ফরম্যাটে থাকে, যা আপনি অফলাইনেও ব্যবহার করতে পারেন।
এই ফাইলে আপনার নাম, ঠিকানা, ছবি, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডির হ্যাশ (Hash) থাকে। এছাড়াও নিরাপত্তার খাতিরে এতে আধার নম্বরের শেষ ৪টি সংখ্যা এবং একটি টাইম স্ট্যাম্প যুক্ত থাকে। অর্থাৎ, আপনার গোপনীয়তা বজায় রেখেই পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়।
এই সুবিধা কেন ব্যবহার করবেন?
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, সাইবার জালিয়াতির ভয়ও তত বাড়ছে। অনেক সময় সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে আধার নম্বর জমা দিলে তা স্টোর বা সেভ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পেপারলেস আধারের মাধ্যমে:
- গোপনীয়তা বজায় থাকে: আধার নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন নেই।
- সুরক্ষা: সার্ভিস প্রোভাইডাররা আপনার বায়োমেট্রিক বা সম্পূর্ণ আধার নম্বর অ্যাক্সেস করতে পারে না।
- সহজ যাচাইকরণ: ব্যাঙ্কিং বা সিম কার্ড তোলার মতো কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়ায় এটি দ্রুত ও নিরাপদ সমাধান।
কীভাবে ডাউনলোড করবেন পেপারলেস আধার?
নিজের পেপারলেস আধার বা অফলাইন ই-কেওয়াইসি ফাইল জেনারেট করা খুবই সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. প্রথমে UIDAI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (uidai.gov.in) যান অথবা এম-আধার (mAadhaar) অ্যাপ ব্যবহার করুন।
২. ওয়েবসাইটের ‘Aadhaar Paperless Offline e-KYC’ বিভাগে প্রবেশ করুন।
৩. আপনার আধার নম্বর বা VID এবং স্ক্রিনে দেখানো সিকিউরিটি কোড দিন। এরপর ‘Send OTP’-তে ক্লিক করুন।
৪. আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে, সেটি নির্দিষ্ট স্থানে লিখুন।
৫. এবার আপনাকে একটি ‘শেয়ার কোড’ (Share Code) তৈরি করতে হবে। এটি মূলত একটি পাসওয়ার্ড যা জিপ (ZIP) ফাইলটি খোলার জন্য লাগবে।
৬. সবশেষে ‘Download’ বোতামে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে ডিজিটালি সাইন করা এক্সএমএল ফাইলটি ডাউনলোড হয়ে যাবে।
ব্যবহারের নিয়মাবলী
ডাউনলোড করা ফাইলটি আপনি যেখানে পরিচয়পত্র বা কেওয়াইসি জমা দিতে চান, সেখানে শেয়ার করতে পারেন। সার্ভিস প্রোভাইডারকে ফাইলটির সাথে আপনার তৈরি করা সেই ‘শেয়ার কোড’ বা পাসওয়ার্ডটি দিতে হবে। এর মাধ্যমে তারা অফলাইনেই আপনার পরিচয় যাচাই করে নিতে পারবে, এবং আপনার আধার তথ্য কোথাও সেভ বা স্টোর হবে না। এটি গ্রাহক এবং সংস্থা—উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক।