DA Arrears: রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মেটানোর অর্ডার না মানলে শীর্ষ আমলাদের জেলযাত্রার হুঁশিয়ারি! কী বললেন মলয়বাবু
DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান এবং আইনি লড়াই এক নতুন মোড় নিয়েছে। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আদালতের নির্দেশের খুঁটিনাটি এবং রাজ্য সরকারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট যে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আদালত অবমাননা ও প্রশাসনিক কর্তাদের ঝুঁকির মুখে
ডিএ মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ‘সিভিল আপিল’ হিসেবে বিচারাধীন। মলয় মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, এসএলপি (SLP) খারিজ হলেও মামলাটি এখনও সম্পূর্ণ জীবন্ত। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অর্থ সরাসরি ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননা। রাজ্য সরকার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটায়, তবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের, বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্য সচিব (Chief Secretary) এবং অর্থ সচিবের (Finance Secretary) জেল হেফাজত পর্যন্ত হতে পারে। আদালতের ‘লক-আপ’ যে সরকারের গড়িমসির কারণে ফের খোলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।
বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সূচী (রোডম্যাপ)
আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বকেয়া মেটানো নিয়ে আপত্তি জানালেও, সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রোডম্যাপ বেঁধে দিয়েছে। মলয়বাবুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ মেটানোর সম্ভাব্য সময়সূচী নিম্নরূপ:
- ৫ই মার্চ ২০২৬: এই তারিখের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ কর্মচারীদের মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ।
- ৬ই মার্চ ২০২৬: পরবর্তী কিস্তি বা পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ।
- ৩১শে মার্চ ২০২৬: বকেয়া থাকা ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি মেটানোর সময়সীমা।
- ১৫ই মে ২০২৬: আদালতের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে, সেই বিষয়ে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার দিন।
রাজ্য বনাম সুপ্রিম কোর্টের কমিটি
ডিএ সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার নিজস্ব একটি কমিটি গঠন করলেও, মলয় মুখোপাধ্যায় সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সিএজি (CAG)-এর মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তৈরি করে দিয়েছে। রাজ্যের কমিটি বড়জোর এই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করতে পারে, কিন্তু আদালতের মূল নির্দেশ বা রোডম্যাপ পরিবর্তন করার কোনো আইনি এখতিয়ার তাদের নেই।
সরকার বদল ও আইনি বাধ্যবাধকতা
সামনে নির্বাচন বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ডিএ প্রাপকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ‘স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, তাই সরকার পরিবর্তন হলেও আদালতের রায় মেনে কর্মচারীদের বকেয়া মেটানো বাধ্যতামূলক। প্রশাসন যেই চালাক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই বললেই চলে।