In-service Teachers TET: কর্মরত শিক্ষকদের কি সত্যিই টেট পরীক্ষায় বসতে হবে? সুপ্রিম কোর্টের আপডেট ও বর্তমান পরিস্থিতি
In-service Teachers TET: কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—চাকরি বাঁচাতে কি শেষ পর্যন্ত টেট (TET) পাশ করতেই হবে? সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার জেরে এই বিষয়টি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক নীরবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি শিক্ষকদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টেট পাশের বিষয়টি হয়তো অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান পরিস্থিতি, আইনি অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করব।
আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অবস্থান
শিক্ষকদের একাংশ আশা করেছিলেন যে আইনি পথে হয়তো কোনো সুরাহা মিলবে। কিন্তু বর্তমান চিত্রটি বেশ হতাশাজনক।
- রিভিউ পিটিশনের স্থবিরতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে একাধিক রাজ্য সরকার ও সংগঠন রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও, এই পিটিশনগুলির শুনানির কোনো আপডেট নেই।
- প্রক্রিয়াগত ধোঁয়াশা: রিভিউ পিটিশনের শুনানি কি বিচারপতির ‘ক্লোজ চেম্বারে’ হবে, নাকি সকলের উপস্থিতিতে ‘ওপেন কোর্টে’ হবে—সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। পিটিশনের ছোটখাটো ত্রুটি বা ‘ডিফেক্ট’ সংশোধন করা হলেও শুনানির দিনক্ষণ এখনো অধরা।
কেন্দ্রের ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অনেক শিক্ষক তাকিয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
- সংসদে নীরবতা: শীতকালীন অধিবেশনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সাংসদরা কর্মরত শিক্ষকদের টেট সংক্রান্ত সমস্যাটি তুলে ধরেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
- অর্ডিন্যান্সের অভাব: সরকার যে কোনো বিশেষ অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করে শিক্ষকদের আইনি রক্ষাকবচ দেবে, তার কোনো ইঙ্গিত এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেও এই সর্বভারতীয় সমস্যা সমাধানের কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস ছিল না।
অন্যান্য রাজ্যের পদক্ষেপ: অশনি সংকেত?
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের জন্য অন্য রাজ্যের পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু সরকার তাদের রাজ্যে কর্মরত শিক্ষকদের (In-service Teachers) জন্য টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, রাজ্যগুলি আদালতের নির্দেশ মেনে টেট নেওয়ার পথেই হাঁটতে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্য সরকার হয়তো এই মুহূর্তে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে ভোটের পর পরিস্থিতি পাল্টালে প্রাথমিক বা উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাদের টেট দিতে হতে পারে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই নিয়ম কি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষকের জন্য? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনো বিশেষ বিভাগ বা সেকশনের (যেমন নরমাল সেকশন বা সেকেন্ডারি) উল্লেখ নেই। নিয়মটি অত্যন্ত স্পষ্ট:
- আপনি যদি প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ক্লাসে পাঠদান করেন, তবে আপনাকে টেট উত্তীর্ণ হতেই হবে।
- আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট যাই হোক না কেন, ১-৮ শ্রেণির পড়ুয়াদের সাথে যুক্ত থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
পরিশেষে বলা যায়, আদালতের রায় এবং কেন্দ্রীয় স্তরে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না থাকায়, কর্মরত শিক্ষকদের মানসিক প্রস্তুতি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যতক্ষণ না কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা আসছে, ততক্ষণ অনিশ্চয়তা কাটছে না।