Yogyasree Scheme: রাজ্য সরকারের নতুন যোগ্যশ্রী প্রকল্পে মিলবে ৩০০০ টাকা ও বিনামূল্যে কোচিং
Yogyasree Scheme: অর্থনৈতিক অনটন যাতে মেধার পথে অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনেক সময় দেখা যায়, মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, উপযুক্ত গাইডেন্স এবং অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। এই সমস্যার সমাধানে রাজ্য প্রশাসন ‘যোগ্যশ্রী প্রকল্প’-এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুযোগ?
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা ভবিষ্যতে সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে যারা ২০২৭ সালে নিট (NEET), জেইই (JEE) কিংবা ডব্লিউবিজেেইই (WBJEE) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার লক্ষ্য স্থির করেছে, তাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ানো হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই সুবিধা শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পড়ুয়াদের জন্য চালু করা হয়েছে। জেলার মোট ৭টি কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে।
মিলবে বিশেষ আর্থিক সহায়তা
শুধুমাত্র বিনামূল্যে কোচিং দেওয়াই নয়, পড়ুয়াদের উৎসাহ ও যাতায়াতের খরচ সামলানোর জন্য সরকার আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থাও রেখেছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পাবেন:
- মোট ১০ মাস ধরে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সর্বমোট ৩০০০ টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে।
- এই টাকা পাওয়ার মূল শর্ত হলো ক্লাসে উপস্থিতি। প্রতি মাসে ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য ৩০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।
ক্লাস এবং প্রশিক্ষণের রুটিন
শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলিতে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- দিন: প্রতি শনি ও রবিবার।
- সময়: প্রতিটি ক্লাস ৪ ঘণ্টা ধরে চলবে।
- মেয়াদ: মাসে গড়ে ৮ দিন ক্লাস হবে এবং মোট ১০ মাস ধরে এই গাইডেন্স দেওয়া হবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও পদ্ধতি
এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. শিক্ষার্থীর পরিবারের বাৎসরিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
২. বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা হতে হবে (পরবর্তীতে অন্যান্য জেলায় প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে)।
আবেদন প্রক্রিয়া: ইচ্ছুক প্রার্থীরা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অথবা অফলাইন মোডে ফর্ম জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই প্রকল্প এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।