WBBSE Guidelines: মাধ্যমিকের খাতা দেখা নিয়ে শিক্ষকদের কড়া নির্দেশ পর্ষদের, মানতেই হবে এই ৪টি নিয়ম
WBBSE Guidelines: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষক (Examiner), প্রধান পরীক্ষক (Head Examiner) এবং স্ক্রুটিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সারা বছরের পরিশ্রম যাতে কোনোভাবেই অবহেলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই পর্ষদ এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
উত্তরপত্র দেখার চিরাচরিত প্রথায় বদল এবং সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে পর্ষদ যে সমস্ত নিয়মাবলী সামনে এনেছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ
পর্ষদ এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্থানের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের স্টাফ রুমে বা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় বসে খাতা দেখেন। পর্ষদ সাফ জানিয়েছে, কোনো পাবলিক প্লেস বা জনসমক্ষে খাতা দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি নিজের বিদ্যালয়ের স্টাফ রুমে বসেও আর মাধ্যমিকের খাতা দেখা যাবে না। উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষককে অবশ্যই একটি নিরাপদ এবং নির্জন স্থান নির্বাচন করতে হবে, যেখানে বাইরের কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
উত্তরপত্রের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে যাতে পড়ুয়াদের খাতা নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
- লক অ্যান্ড কি: খাতা দেখার কাজ শেষ হওয়ার পর বা বিরতির সময় উত্তরপত্রগুলি অবশ্যই তালাবন্ধ অবস্থায় (Lock and Key) রাখতে হবে।
- আবহাওয়াজনিত সতর্কতা: বৃষ্টি বা আর্দ্রতার হাত থেকে রক্ষা করতে খাতাগুলি এমন জায়গায় রাখতে হবে যা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। সামান্য অসতর্কতায় খাতা ভিজে গেলে বা নষ্ট হলে তা বড়সড় গাফিলতি হিসেবে গণ্য হবে।
তথ্য ফাঁসের ওপর নিষেধাজ্ঞা
খাতা দেখার সময় পর্ষদ পরীক্ষকদের কিছু বিশেষ ‘ইনস্ট্রাকশন’ বা নম্বর দেওয়ার নির্দেশিকা দিয়ে থাকে। এই নির্দেশিকা বা ছাত্রছাত্রীরা খাতায় কী লিখেছে, তা নিয়ে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না। নম্বর বিভাজন বা মূল্যায়নের নিয়মাবলী সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে। এই তথ্য কোনোভাবেই যাতে জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে।
সময়ের কড়াকড়ি
পর্ষদ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই খাতা দেখার কাজ শেষ করতে হবে। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার জন্য যে ‘ফার্স্ট ইনস্টলমেন্ট’ এবং ‘সেকেন্ড ইনস্টলমেন্ট’-এর সময়সূচী দেওয়া হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই পরীক্ষকদের মূল্যায়িত খাতা জমা দিতে হবে, যাতে ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব না ঘটে।
পর্ষদের এই নির্দেশিকা অমান্য করলে তা কর্তব্যে গাফিলতি হিসেবে দেখা হতে পারে। তাই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই সংবেদনশীল কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।