ডিএ

DA Arrears Report: আজ কি পেশ হচ্ছে ডিএ কমিটি রিপোর্ট? বকেয়া মেটানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের নতুন চাল!

DA Arrears Report: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে আইনি লড়াই এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্ট এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে জোর চর্চা চলছে প্রশাসনিক মহলে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়ায় কেন বিলম্ব হচ্ছে এবং আন্দোলনকারীরা এর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা নিচে দেওয়া হলো।

রাজ্য সরকারের ‘সময় কেনা’র কৌশল?

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, সরকার এই নির্দেশ পালন না করে আইনি জটিলতা তৈরির মাধ্যমে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে।

  • রিভিউ পিটিশনের সম্ভাবনা: শোনা যাচ্ছে, সরকার সুপ্রিম কোর্টে ‘রিভিউ পিটিশন’ (Review Petition) দাখিল করার পরিকল্পনা করছে। যদিও এই পিটিশন খারিজ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবুও এটি প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
  • নির্বাচন পর্যন্ত বিলম্ব: রিভিউ পিটিশন ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ‘মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন’ জমা দিয়ে আসন্ন নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার একটি কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
  • তথ্যে অসহযোগিতা: নবান্ন সূত্রে খবর, ইন্দু মালহোত্রা কমিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে বেশ কিছু বিষয়ের স্পষ্টীকরণ চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের তরফে দায়সারা উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং কমিটির কাজে যথাযথ সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ।

সিএজি তথ্যের ভিত্তিতে কমিটির রিপোর্ট প্রস্তুত

রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ইন্দু মালহোত্রা কমিটি তাদের কাজ থামিয়ে রাখেনি। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো বকেয়া ডিএ-র বাকি ৭৫ শতাংশ কতগুলি কিস্তিতে এবং কীভাবে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করা।

  • বিকল্প পথ: যেহেতু রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি, তাই কমিটি ‘ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল’ বা সিএজি-র (CAG) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে।
  • সময়সীমার গুরুত্ব: ৩১শে মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এই রিপোর্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্রুত এই জট খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজপথের লড়াই ও আন্দোলনের ডাক

শুধুমাত্র আদালতের ওপর ভরসা করে বসে থাকতে নারাজ সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলি। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের বক্তব্যে উঠে এসেছে আন্দোলনের ঝাঁঝালো রূপরেখা।

  • আইনি মারপ্যাঁচের মোকাবিলা: ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সরকার যে আইনি পথে সময় নষ্ট করবে, তা তাঁরা আগেই অনুমান করেছিলেন। তাই সমান্তরালভাবে আন্দোলনের পথেই তাঁরা হাঁটছেন।
  • ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি: সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আগামী ১৩ই তারিখে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মতে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের তীব্র আন্দোলনই বকেয়া আদায়ে সরকারকে বাধ্য করবে।

আদালতের পরবর্তী শুনানিতে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্ট এবং সরকারের রিভিউ পিটিশনের কৌশল—এই দুইয়ের মধ্যে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পায়, সেটাই এখন দেখার। তবে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button