ডিএ

DA Case Update: ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ২০০ পাতার রিপোর্ট! রাজ্যের পক্ষ থেকে মডিফিকেশন আবেদন জমা

DA Case Update: মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ফের নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ কমিটি এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনারদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা নিয়ে যে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং রাজ্যের জমা দেওয়া ২০০ পাতার রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

কমিটির বৈঠক ও সময়সীমা নির্ধারণ

সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের প্রথম ভার্চুয়াল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সকাল ১০:৩০ টায়। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার বেঞ্চ রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ী ব্রেকআপ জমা দিতে হবে। এই কাজের জন্য রাজ্য সরকারকে আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

২০০ পাতার রিপোর্টে উঠে আসা পরিসংখ্যান

আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশদ রিপোর্ট পেশ করেছে, যার আয়তন ২০০ পৃষ্ঠারও বেশি। এই রিপোর্টে ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে ‘বিবেচ্য সময়কাল’ হিসেবে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লিখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • কর্মীর সংখ্যা: রাজ্যের ক্যাটাগরি ‘এ’ ভুক্ত কর্মীর সংখ্যা ৫২,১৩০ জন। অন্যদিকে ক্যাটাগরি ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’ মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ৩,১৭,৯৫৪ জন।
  • পেনশনারদের তথ্য: উল্লিখিত সময়কালের মধ্যে থাকা রাজ্য সরকারি পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের বছর অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্যও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

রায় সংশোধনের আবেদন বা মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন

একদিকে যখন কমিটির কাছে তথ্য পেশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে একটি ‘মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন’ দাখিল করেছে। এর আগেও ২০২৫ সালের ১৬ই মে ২৫% বকেয়া মেটানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য একই ধরণের আবেদন করেছিল, যা ফলপ্রসূ হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এবারেও এই রায় সংশোধনের আবেদনে রাজ্যের বিশেষ কোনো আইনি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ১৯শে ফেব্রুয়ারির পর কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button