RBI Fraud Compensation: অনলাইন ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে এবার টাকা ফেরত দেবে আরবিআই! গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি
RBI Fraud Compensation: বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে অনলাইন জালিয়াতি এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। নতুন একটি খসড়া নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে ছোট অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
গ্রাহকদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হওয়া ব্যাঙ্ক জালিয়াতির প্রায় ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার নিচে থাকে। তাই ছোটখাটো প্রতারণার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এই নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জালিয়াতির শিকার হন, তবে তিনি আংশিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ক্ষতিপূরণ গ্রাহকের নিজের ভুলের কারণে জালিয়াতি হলেও পাওয়া যেতে পারে। নিয়ম অনুসারে, গ্রাহক তাঁর মোট ক্ষতির ৮৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম হবে) ফেরত পেতে পারেন।
ব্যাঙ্ক বনাম গ্রাহক: ক্ষতির দায় কার?
জালিয়াতি কীভাবে হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে দায়ভার ঠিক করা হবে। যদি ব্যাঙ্ক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, লেনদেনের অ্যালার্ট না পাঠায় বা অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি করে, তবে সেটিকে ব্যাঙ্কের ভুল হিসেবে ধরা হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো দায় নিতে হবে না এবং তিনি সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাবেন। অন্যদিকে, গ্রাহক যদি নিজের পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি কারও সাথে শেয়ার করেন, তবে তা গ্রাহকের গাফিলতি বলে বিবেচিত হবে। তবে গ্রাহকের গাফিলতি প্রমাণ করার দায়িত্ব ব্যাঙ্কের ওপরেই থাকবে।
কীভাবে অভিযোগ জানাবেন?
প্রতারিত হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জালিয়াতি হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে গ্রাহককে দুটি জায়গায় অভিযোগ জানাতে হবে। প্রথমত, নিজের ব্যাঙ্কে এবং দ্বিতীয়ত, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে। অভিযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ককে তদন্ত শেষ করে গ্রাহককে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
কবে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে?
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বৈদ্যুতিন লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আপাতত আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের থেকে মতামত নেওয়ার জন্য এই প্রস্তাবটি রাখা হয়েছে। চালু হওয়ার এক বছর পর এই নিয়মটি ফের পর্যালোচনা করা হবে।