Arrear DA: নির্বাচনী আচরণবিধির মাঝেই কি জারি হতে পারে বকেয়া ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি? জানুন আসল সত্য
Arrear DA: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি বার্তার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় কি এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব? তবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কর্মীদের আশঙ্কার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
ভোটের বিধি কেন বাধা হবে না?
এখানে মূল বিষয়টি হলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মেটানোর প্রথম কিস্তি প্রদান করতে হবে। আদালতের এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচনী আচরণবিধি বা ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। তাছাড়া, আইনি জটিলতা এড়াতে অর্থ দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিটি আগের কোনো তারিখ (যেমন ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের প্রথম দিক) উল্লেখ করে জারি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে কী কী নির্দেশিকা থাকতে পারে?
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিএ প্রদানের সম্পূর্ণ রূপরেখা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হবে:
- টাকা পাওয়ার মাধ্যম: বকেয়া অর্থ সরাসরি কর্মীদের স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা হবে নাকি প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF) যাবে, তার সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকবে।
- অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা: যাঁরা পেনশন পাচ্ছেন বা ফ্যামিলি পেনশনভোগী, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি এই নির্দেশিকায় বিস্তারিত থাকবে।
- কিস্তির হিসাব: বর্তমানে বকেয়া টাকার ঠিক কত শতাংশ দেওয়া হচ্ছে এবং অবশিষ্ট অংশ কবে মেটানো হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।
- উত্তরাধিকারীদের দাবি: মৃত কর্মী বা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে তাঁদের বৈধ উত্তরাধিকারীরা কীভাবে এই বকেয়া অর্থের দাবি জানাবেন, সেই সম্পর্কিত নিয়মাবলিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলেও বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে প্রযুক্তিগত কোনো অন্তরায় নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তাই সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অহেতুক বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ দপ্তরের ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।