Election Duty Pay: বিধানসভা ভোট ২০২৬: প্রিসাইডিং থেকে পোলিং অফিসার, ডিউটি করলে কত টাকা পাবেন? জানুন হিসাব
Election Duty Pay: আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যারা ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরে কর্মরত ভোটকর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁদের এই পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে এবং ডিউটি চলাকালীন খাওয়া-দাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আর্থিক ভাতা এবং আনুষঙ্গিক খরচের একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে।
একনজরে মোট প্রাপ্তির হিসাব
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন কর্মীর মূল পারিশ্রমিক এবং খাবার খরচ মিলিয়ে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে তাঁর পদের ওপর।
- প্রিসাইডিং অফিসার: এই পদের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মোট ৩০০০ টাকা পেয়ে থাকেন (২০০০ টাকা মূল ভাতা এবং ১০০০ টাকা খাবার খরচ)। এর পাশাপাশি আনুষঙ্গিক বা মোবাইল খরচের জন্য কিছু অতিরিক্ত ভাতাও যোগ হতে পারে।
- পোলিং অফিসার (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়): এই স্তরের ভোটকর্মীদের মোট ২৬০০ টাকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ১৬০০ টাকা পারিশ্রমিক এবং ১০০০ টাকা টিফিন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
পদ অনুযায়ী মূল ভাতার তালিকা
ভোটের দিনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট পদ অনুযায়ী কর্মীদের যে পারিশ্রমিক ধার্য করা হয়েছে, তা হলো:
- সেক্টর অফিসার: ফুল-টাইম ডিউটির জন্য সর্বাধিক ১০০০০ টাকা।
- মাইক্রো অবজার্ভার: এককালীন ২০০০ টাকা।
- প্রিসাইডিং অফিসার ও কাউন্টিং সুপারভাইজার: দৈনিক ৫০০ টাকা অথবা এককালীন ২০০০ টাকা।
- পোলিং অফিসার: দৈনিক ৪০০ টাকা অথবা এককালীন ১৬০০ টাকা।
- কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: ১৩৫০ টাকা।
খাবার ও টিফিন খরচের বরাদ্দ
ভোটের মতো দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ডিউটিতে কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে আলাদাভাবে টিফিন ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পোলিং এবং পুলিশ—উভয় পার্সোনেলদের জন্যই দৈনিক ৫০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যেহেতু ভোটকর্মীদের সাধারণত ভোটের আগের দিন এবং ভোটের দিন মিলিয়ে মোট দু’দিন ডিউটি করতে হয়, তাই তাঁরা জনপ্রতি মোট ১০০০ টাকা খাবার খরচ হিসেবে পেয়ে থাকেন।
নির্দেশিকার প্রেক্ষাপট
এই ভাতার কাঠামোটি রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে ভোটকর্মীদের ভাতা সংশোধন করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের ৮ই আগস্ট কমিশন পারিশ্রমিক পুনরায় বৃদ্ধি করে। ২০২৬ সালের ১৫ই মার্চ প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের ৮২ পৃষ্ঠার প্রেস নোটের (৪৬ নম্বর পৃষ্ঠায়) বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংশোধিত এই কাঠামোই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।