Free Ration Update: রেশন কার্ডধারীদের জন্য সুখবর! এপ্রিল থেকেই একলপ্তে মিলবে ৩ মাসের আগাম রেশন, জানুন কারা পাবেন
Free Ration Update: দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার। আগামী এপ্রিল মাস থেকে রেশন বন্টন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপভোক্তাদের আর প্রতি মাসে রেশন দোকানে লাইন দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এপ্রিল মাসেই একেবারে তিন মাসের খাদ্যশস্য আগাম তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে প্রায় ৮০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আগাম রেশন দেওয়ার কারণ ও সুবিধা
মূলত ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা এনএফএসএ এর অন্তর্ভুক্ত উপভোক্তাদের জন্যই এই সুবিধা নিয়ে আসা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে একটি বড় কারণ হলো গুদামের সঠিক ব্যবস্থাপনা। খাদ্য নিগমের গুদামগুলিতে মজুত থাকা পুরোনো শস্য দ্রুত বন্টন করে দিলে নতুন কৃষিজ ফসল রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাধারণ নিম্ন আয়ের ও গ্রামীণ মানুষরা একবারে তিন মাসের খাদ্যশস্য পেয়ে গেলে তাদের বারবার রেশন দোকানে আসার ঝক্কি পোহাতে হবে না।
কী পরিমাণে মিলবে খাদ্যশস্য?
রেশনের নির্ধারিত পরিমাণে কোনো কাটছাঁট করা হচ্ছে না। আগে মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল বা গম দেওয়া হতো। নতুন নিয়মে এপ্রিল মাসে উপভোক্তারা এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের রেশন একত্রে পাবেন। অর্থাৎ একজন উপভোক্তা একবারে মোট ১৫ কেজি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর মে ও জুন মাসে আর আলাদা করে কোনো রেশন দেওয়া হবে না।
রাজ্যের কার্ডধারীদের জন্য নিয়ম
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতাধীন এএওয়াই, পিএইচএইচ এবং এসপিএইচএইচ কার্ডধারীরাই কেবল এই সুবিধা পাবেন। তবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্প আরকেএসওয়াই-১ এবং আরকেএসওয়াই-২ কার্ড যাদের রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। রাজ্যের কার্ডধারীরা আগের মতোই প্রতি মাসে নিজেদের প্রাপ্য রেশন সংগ্রহ করতে পারবেন।
রেশন ডিলারদের আপত্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি
কেন্দ্রের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সুবিধা হলেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। তারা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে চিঠি দিয়ে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
- জায়গার অভাব: একসঙ্গে তিন মাসের বিপুল পরিমাণ রেশন মজুত রাখার মতো পরিকাঠামো বেশিরভাগ ডিলারের দোকানে নেই।
- নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা: সঠিক সংরক্ষণের অভাব থাকলে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রচুর পরিমাণ শস্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার বড়সড় ঝুঁকি থেকে যায়।
- উপভোক্তাদের সংরক্ষণের সমস্যা: সাধারণ মানুষের ঘরেও একবারে এতটা পরিমাণ চাল ও গম সঠিকভাবে মজুত রাখা কঠিন হতে পারে। বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই শস্য নষ্ট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
ডিলারদের তরফ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কেন্দ্র সরকার যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে এপ্রিল মাস থেকেই এই নতুন পরিকাঠামোয় রেশন বন্টন শুরু হয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে, অন্যদিকে ডিলারদের জন্য এটি একটি বড় পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।