Aikyashree Scholarship: সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য রাজ্যের দারুণ উদ্যোগ! ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে মিলবে বছরে ৩০ হাজার টাকা
Aikyashree Scholarship: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থা। অর্থাভাব যাতে কোনোভাবেই তরুণ প্রজন্মের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্যই ঐক্যশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে যারা নতুন করে এই আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে চাইছেন বা পুরোনো আবেদন নবীকরণ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সম্পূর্ণ নির্দেশিকা ও খুঁটিনাটি তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
কারা পাবেন এই আর্থিক সহায়তা?
এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত সেইসব ছাত্রছাত্রীদের জন্য যারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (যেমন মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, পার্সি বা জৈন) ভুক্ত। তবে এর জন্য মেধারও একটি মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। আবেদনকারীকে তার শেষ উত্তীর্ণ পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে পারিবারিক আয়ের দিকে। স্কুল স্তরের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকার নিচে এবং প্রফেশনাল কোর্সের ক্ষেত্রে তা ২.৫ লক্ষ টাকার নিচে হওয়া বাধ্যতামূলক।
অনুদানের পরিমাণ ও স্তর বিভাজন
পড়াশোনার বিভিন্ন স্তরের ওপর ভিত্তি করে এই আর্থিক সহায়তাকে প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্রি-ম্যাট্রিক স্তর: প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য। এখানে বছরে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়।
- পোস্ট-ম্যাট্রিক স্তর: একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে পিএইচডি স্তরের শিক্ষার্থীরা এই বিভাগে পড়েন। তাদের জন্য বার্ষিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে।
- মেরিট-কাম-মিনস: ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি বা ম্যানেজমেন্টের মতো বৃত্তিমূলক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি প্রযোজ্য। এই স্তরের পড়ুয়ারা বছরে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
কীভাবে আবেদন করবেন এবং কী কী লাগবে?
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হয়। ডব্লিউবিএমডিএফসি-র (WBMDFC) নিজস্ব স্কলারশিপ পোর্টালে গিয়ে ‘স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন’ সম্পন্ন করতে হবে। সেখানে নিজের জেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি তৈরি হবে। সেই আইডি ব্যবহার করে লগ-ইন করে আবেদনপত্রটি নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
জরুরি নথিপত্র:
আবেদনের সময় শেষ পরীক্ষার মার্কশিট, নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই, আধার কার্ড, আয়ের শংসাপত্র, বর্তমান কোর্সে ভর্তির প্রমাণ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া বোনাফাইড সার্টিফিকেট স্ক্যান করে আপলোড করা প্রয়োজন। এরপর ফাইনাল সাবমিট করে ফর্মের প্রিন্ট আউট নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে।
কিছু জরুরি নিয়মাবলী ও হেল্পলাইন
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে ঐক্যশ্রীর পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপও (SVMCM) পাওয়া যাবে কি না। সরকারি নিয়ম অনুসারে একজন পড়ুয়া যেকোনো একটি স্কলারশিপের সুবিধাই পেতে পারেন। তবে কোনো পড়ুয়ার যদি ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর থাকে, তাহলে তিনি ঐক্যশ্রী পোর্টালের মাধ্যমেই স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের নির্দিষ্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো রকম সাহায্যের প্রয়োজন হলে প্রার্থীরা টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-১২০-২১৩০ অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ৮০১৭০৭৬০১১-তে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পোর্টাল খোলা থাকে, তাই আগ্রহী পড়ুয়াদের নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইটটি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।