Atal Pension Yojana: কেন্দ্রীয় সরকারের বড় ঘোষণা: ৫ বছরের জন্য বাড়ল এই জনপ্রিয় পেনশন প্রকল্পের মেয়াদ! কারা পাবেন সুবিধা?
Atal Pension Yojana: অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবং বার্ধক্যকালীন আয়ের নিরাপত্তা প্রদান করতে কেন্দ্রীয় সরকার আবারও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অটল পেনশন যোজনা (APY)-র মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষ এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।
অটল পেনশন যোজনা এবং এর সুবিধা
অটল পেনশন যোজনা মূলত একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা স্কিম। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো অসংগঠিত খাতের কর্মীদের অবসর গ্রহণের পর একটি নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের ব্যবস্থা করা। এই স্কিমের নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধাভোগীরা ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত পেনশন পেতে পারেন। পেনশনের এই পরিমাণটি নির্ভর করে গ্রাহক কত টাকা এবং কত দিন ধরে প্রিমিয়াম জমা দিচ্ছেন তার ওপর।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রকল্পে শুধুমাত্র গ্রাহক নন, তার মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীও আজীবন একই পরিমাণ পেনশন পাওয়ার অধিকারী হন। এমনকি, উভয়ের মৃত্যুর পর জমানো পেনশনের পুরো টাকাটি নমিনি বা মনোনীত ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) থেকে কোথায় আলাদা?
অনেকেই ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এবং অটল পেনশন যোজনার (APY) মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। তবে এই দুইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। NPS মূলত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের বেতনভুক কর্মীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অন্যদিকে, APY বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখে।
আবেদনের যোগ্যতা এবং নিয়মাবলী
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীর নিজস্ব একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক, যা মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বরের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকবে। এই স্কিমে পেনশনের সুবিধা পেতে হলে গ্রাহককে ন্যূনতম ২০ বছর ধরে নিয়মিত অবদান বা কন্ট্রিবিউশন রাখতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন না?
সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন বা আয়কর প্রদানকারী, তারা এই অটল পেনশন যোজনায় আবেদন করার যোগ্য নন।
আবেদন করার পদ্ধতি
আগ্রহী ব্যক্তিরা অফলাইন এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই এই স্কিমে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন:
- অফলাইন পদ্ধতি: যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে গিয়ে APY রেজিস্ট্রেশন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। ফর্মে নিজের নাম, বয়স, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং নমিনির বিস্তারিত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। স্বামী বা স্ত্রী থাকলে তাদের তথ্যও দিতে হবে। সবশেষে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে ফর্মটি জমা দিতে হবে।
- অনলাইন পদ্ধতি: ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করতে চাইলে এনপিএস ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (npstrust.org.in/open-apy-account)-এ গিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব।
এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষ এখন নিজেদের বার্ধক্য জীবন সুরক্ষিত করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘোষণা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ বা বিনিয়োগের নির্দেশ নয়। কোনো স্কিমে বিনিয়োগ করার আগে স্কিমের নথিপত্র ভালো করে পড়ে নিন বা আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।