Banglar Bari Payment: বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা এখনো পাননি? পেমেন্ট ফেল হলে কী করবেন? নতুন আবেদনের পদ্ধতি
Banglar Bari Payment: পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অধীনে গৃহহীন ও কাঁচা বাড়ির মালিকদের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ২৮শে জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের অধীনে ২০ লক্ষ উপভোক্তার জন্য তহবিল অনুমোদন করেছেন। যারা এখনও অর্থের জন্য অপেক্ষা করছেন বা পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন, তাদের জন্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হলো।
অনুদানের পরিমাণ ও সময়সীমা
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আবাসন প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হলেও, রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির স্বপ্ন পূরণ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
- প্রথম কিস্তি: উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম ধাপে ৬০,০০০ টাকা পাঠানো হচ্ছে।
- সময়সীমা: ২৮শে জানুয়ারি টাকা ছাড়ার ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে এই অর্থ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। মাঝখানে রবিবার বা ছুটির দিন থাকলে ট্রেজারি বন্ধ থাকার কারণে সামান্য বিলম্ব হতে পারে, তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই টাকা ঢুকে যাওয়ার কথা।
- এসএমএস বার্তা: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উপভোক্তাদের ফোনে আশ্বাসের বার্তা (SMS) পাঠানো হচ্ছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
পেমেন্ট ফেল বা টাকা না ঢোকার কারণ ও সমাধান
অনেকের মোবাইলে ব্যাংক থেকে ৬০,০০০ টাকার পেমেন্ট ফেইল (Payment Failed) হওয়ার মেসেজ আসছে। এটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয় হলেও এর সমাধান রয়েছে। সাধারণত দুটি মূল কারণে এটি ঘটছে:
১. ভুল তথ্য: আবেদনপত্রে ভুল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ভুল ব্রাঞ্চের নাম থাকলে।
২. আইএফএসসি (IFSC) সমস্যা: সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ বা মার্জ (Merge) হয়েছে। এর ফলে পুরনো আইএফএসসি কোড পরিবর্তন হয়ে গেছে, যা অনেকে আপডেট করেননি।
সমাধান: যদি আপনার পেমেন্ট ফেইল হয়ে থাকে, তবে দুশ্চিন্তা করবেন না। অবিলম্বে আপনার ব্যাংকের আপডেটেড পাসবুক নিয়ে স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসে যোগাযোগ করুন। সেখানে সঠিক তথ্য জমা দিলে পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনের স্ট্যাটাস ও নতুন আবেদন
যারা এর আগে “সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী” হেল্পলাইনে ফোন করে আবাস যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে যোগ্য ৪ লক্ষ উপভোক্তাকে এই পর্যায়ে টাকা দেওয়া হয়েছে। হেল্পলাইনে মোট প্রায় ১৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। বাকিদের তথ্য বর্তমানে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার (Verification) মধ্যে রয়েছে।
- যাচাই প্রক্রিয়া: বাকি আবেদনকারীদের তথ্য বিডিও অফিস থেকে যাচাই করে জেলা ও নবান্নে পাঠানো হচ্ছে।
- পরবর্তী পর্যায়: মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে সার্ভে শেষ হলে পরবর্তী ধাপে বাকি যোগ্যদের টাকা দেওয়া হবে।
নতুন আবেদন করবেন কীভাবে?
বর্তমানে বিডিও অফিসে লাইন দিয়ে বা পঞ্চায়েতে গিয়ে নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। নতুন আবেদনের একমাত্র খোলা পথ হলো “সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী” হেল্পলাইন।
- হেল্পলাইন নম্বরে কল করে আপনার নাম, ঠিকানা, গ্রাম, পঞ্চায়েত ও জেলার নাম স্পষ্ট করে বলতে হবে।
- আপনার অভিযোগ বা দাবি নথিভুক্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে সরকারি আধিকারিকরা আপনার বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত বা সার্ভে করবেন।
যারা এখনও টাকা পাননি, তাদের অন্তত ৭ দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর যদি পেমেন্ট ফেইল হয়ে থাকে, তবে দ্রুত বিডিও অফিসে যোগাযোগ করাই শ্রেয়।